সাধারণত রোগীর পরিজনদের তরফেই এমন অভিযোগ করা হয়ে থাকে। নানান সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। এবার এই একই অভিযোগ করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভুল চিকিৎসার জন্যই তাঁর সেপটিক মতো হয়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কোন হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
৫৫ দিন পর গতকাল, মঙ্গলবার নবান্নে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে দীর্ঘদিন না আসা নিয়ে বেশ অনেক কথা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেসবের জবাব দিয়ে মমতা বলেন, “কটা মুখ্যমন্ত্রী অফিসে যান? বাড়ি থেকে কাজ করেন। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে যাবেন সেটাই অফিস। আমি ১৩দিন স্পেনে গিয়েছি। পুজোর ছুটি রয়েছে। ক্যাবিনেট মিটিংও ধরেছেন। পুজো উদ্বোধন ধরেছেন। বড়জোর বলতে পারেন ১২-১৩ দিন। তা না ৫৫ দিনের হিসাব”।
কী সমস্যা হয়েছিল মমতা?
আসলে রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে স্পেন সফরে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই পায়ে চোট পেয়েছিলেন তিনি। তার আগে উত্তরবঙ্গে হেলিকপ্টার বিভ্রাটের সময়ও পায়ে চোট লেগেছিল তাঁর। সেই একই জায়গায় ফের পা হড়কে গিয়ে চোট লাগে স্পেন সফরে। সেই নিয়েই টানা বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর কলকাতায় ফিরে সোজা তিনি গিয়েছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালে।
সেই সময় চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথাও বলেছিলেন কিন্তু তিনি রাজি হন নি। বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন মমতা। সেই অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা হচ্ছিল তাঁর। কিন্তু এবার ভুল চিকিৎসার অভিযোগ আনলেন মমতা। তবে কোনও হাসপাতালের বা চিকিৎসকের নাম নেন নি মুখ্যমন্ত্রী।
শারীরিক সমস্যা নিয়ে কী জানান মমতা?
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, “ভুল চিকিৎসার জন্য সেপটিকের মতো হয়ে গিয়েছিল। যেভাবে স্যালাইন দেওয়া হয়, সাতদিন সেভাবে চ্যানেল করা ছিল। বিছানা থেকে উঠতে পারিনি”।
শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজ করে গিয়েছেন তিনি। মমতা জানান, “প্রতিদিন অফিস থেকে কাগজ গিয়েছে”। তিনি এও জানান যে পুজোর সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই কারণে পুজোর দিনগুলিতে ভোর চারটে পর্যন্তও জেগে থাকতেন তিনি।






