‘যান কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি খুঁজে নিন, ডিএ বেশি পাবেন, এখানে দিতে পারব না’, ডিএ আন্দোলনকারীদের বেজায় তোপ মমতার

ডিএ নিয়ে জট কোনও মতেই কাটছে না। প্রাপ্য ডিএ-র দাবীতে এখনও আন্দোলন চালাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। তাদের দাবী, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। তাদের এই আন্দোলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ বিরক্ত। একথা আগেও তাঁর মন্তব্যে বোঝা গিয়েছে। আর এবারও ডিএ আন্দোলনকারীদের উপর ক্ষুব্ধ হলেন তিনি।

আজ, সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকেই ডিএ আন্দোলনকারীদের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। এই প্রসঙ্গে আক্রমণ করেন বাম-বিজেপিকেও। বলেন, “অফিস টাইমে কাজ বন্ধ করে মিছিল করা হচ্ছে। এটা সার্ভিস রুল ব্রেক হচ্ছে না? রোজ কাজ না করার হুঙ্কার। সব জায়গায় কোঅর্ডিনেশন কমিটির লোকেরা বসে আছে। কিন্তু আমি সহানুভূতিশীল। আমি কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করিনি। তার মানে কিন্তু আমি দুর্বল নই”।

এদিন ডিএ আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বেশ কড়া ভাষায় তোপ দেগে মমতা বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি খুঁজে নিন, আরও বেশি ডিএ পাবেন। ডিএ বাধ্যতামূলক নয়, এটা একটা অপশন, টাকা থাকলে ভালবেসে দিতাম”। এখানেই শেষ নয়, তিনি এদিন এও বলেন, প্রাথমিকের যে ৩৬ হাজার শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন, তার জন্যও ডিএ আন্দোলনই দায়ী।

কেন্দ্রীয় হারেই বকেয়া ডিএ দিতে হবে, এমনটাই দাবী করেছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। গত ২৭শে জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন তারা। অনশন, কর্মবিরতি, এমন অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন আন্দোলনকারীরা। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে এই মামলা। আদালতের নির্দেশে ডিএ আন্দোলনকারীদের বৈঠকও করে রাজ্য সরকার। কিন্তু কোনও রফাসূত্র মেলেনি।

আর এদিন মমতার কথায় বেশ স্পষ্ট যে রাজ্য সরকার ডিএ আন্দোলনকারীদের দাবী কোনওভাবেই মানবে না। এর আগে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও এই একই কথা বলেছিলেন ডিএ আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে। বেশি পরিমাণ ডিএ দাবী করলে যেন তারা কেন্দ্রীয় চাকরি খুঁজে নেন, এমন কথা বলেছিলেন ফিরহাদও। আর আজ এই একই কথা শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলাতেও।

আরও অন্যান্য খবর