এবার আর ট্যুইটে লড়াই নয়। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে চিঠি দিয়ে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাজভবনে দীর্ঘ পাঁচ পাতার চিঠি প্রেরণ করেছেন তিনি। চিঠিতে রীতিমতো চাঁচাছোলা ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘আপনার বলার ভঙ্গি, শব্দচয়ন অসাংবিধানিক। আপনার নিজেকেই বিচার করা উচিত। আপনার মন্তব্য আমার অফিসকে অপমান করেছে, আমার মন্ত্রিসভাকে অপমান করেছে।’
এখানেই থামেননি মমতা। তিনি লিখেছেন, ‘আমার ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ অগ্রাহ্য করতে পারেন, কিন্তু আম্বেদকরের কথা অগ্রাহ্য করা আপনার উচিত নয়। আপনি বোধহয় ভুলে গিয়েছেন আমি নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী, আর আপনি মনোনীত রাজ্যপাল।’ শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘যে রাজ্যের রাজ্যপাল আপনি, সেই রাজ্যের সরকারের প্রতি আক্রমণ করাটাই আপনার কাজ হয়ে উঠেছে।’

রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল সংঘাতে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা এই চিঠি নতুন মাত্রা যোগ করল। উল্লেখ্য, করোনা উত্তেজনার মধ্যে রাজ্য সরকারের ধারাবাহিক ভাবে সমালোচনা করে চলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। রেশন থেকে ত্রাণ, করোনার গঠিত অডিট কমিটি নিয়ে বারবার রাজ্যের প্রতি আক্রমণ শানাচ্ছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় দলকে অসহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
বুধবারও টুইটারে তিনি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে সংবিধানের মর্ম ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি লিখেন, ‘গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে সংবিধান মেনে চলার উপরে। সমন্বয়ের ভিত্তিতে কেন্দ্র-রাজ্যের গঠনমূলক কাজের কথাই বলেছে সংবিধান। দু’পক্ষের ভূমিকাই গুরুত্বপূর্ণ। মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের কাছে আবেদন, রাজ্যের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করুন।’ আর তাই এবার আরও কড়া হলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাঁচ পাতার চিঠি পাঠিয়ে রীতিমতো রাজ্যপাল কে হুঁশিয়ারি দিলেন।





