এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি গ্রেফতার করেছে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee)। পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee) ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে টাকার পাহাড়। তাঁকেও গ্রেফতার করেছে ইডি (Enforcement Directorate)। এই নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি সরগরম। এবার পার্থ ও অর্পিতার এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন বলি তারকা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakborty)।
আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “আমার মনে হয় না, এত টাকা এই দু’জনের হতে পারে। এখানে অনেকের টাকা রয়েছে। স্যার ও ম্যাডামকে আমি অনুরোধ করব, নিজেদের এত কষ্ট দেবেন না। সত্যি কথা সকলকে বলে দিন। অপরের জন্য নিজেরা এত কষ্ট সহ্য করবেন না। ওনারা লুটের টাকা রক্ষা করতেন। তাই বলব, সত্যি কথা জানিয়ে দিন সকলকে”। নিজের এই কথার মধ্যে দিয়ে বলি তারকা তথা মিঠুন চক্রবর্তী এই ইঙ্গিতই দিলেন যে এই ঘটনার পিছনে আরও অনেকেই রয়েছেন।
মিঠুনের এহেন মন্তব্যের প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “ইডি তো নিজেদের মতো করে তদন্ত করছে। উনি কি তদন্তকারীদের প্রভাবিত করতে চাইছেন”? এই প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এটা নতুন কিছু নয়। মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্য একেবারেই অসঙ্গত নয়। ওই দলের তো একটাই পোস্ট, বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট। পার্থ-অর্পিতা সবাই দাবার ঘুঁটি। নাহলে রাজ্যে এতকিছু হয়ে যায়, পুলিশ কেন কিছু টের পায় না? পুলিশ মন্ত্রীই বা কেন চুপ”?
বলে রাখি, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির সন্দেহে ইডি গ্রেফতার করেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। গত শুক্রবার রাতে অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২১ কোটি টাকা ও গয়না। এরপর গতকাল, বুধবার অর্পিতার রথতলার ফ্ল্যাটে হানা দেয় ইডি। সেখান থেকে উদ্ধার হয় টাকার পাহাড়। তা কুবেরের ধন বললেও ভুল বলা হবে নাা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সে নগদ টাকার পরিমাণ আনুমানিক ৩০ কোটির কাছাকাছি। ফ্ল্যাটের বাথরুম ও ওয়ার্ড্রোব থেকে উদ্ধার হয়েছে মুঠো মুঠো রূপোর কয়েন, ৬ কেজিওর বেশি সোনার বাঁট ও ৫০ গ্রাম ওজনের ছয় ছয়টি সোনার বালা। যার আনুমানিক মূল্য ৪.৩১ কোটি টাকা। এছাড়া মিলেছে প্রায় ১ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের নথি সহ একাধিক দলিল, গুরুত্বপূর্ণ কাগজ এবং হার্ডডিস্কও মিলেছে।





