সোশ্যাল সাইটে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের নির্দেশিকা ভুলবশত ফাঁস হওয়ার পরই বদলি হতে হল জেলা হাসপাতালের সুপারকে। ওই জায়গায় বর্তমানে পাঠানো হয়েছে শর্মিলা মল্লিককে। হাসপাতালের প্রাক্তন সুপার ডক্টর দেবেশ সাহাকে পাঠানো হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে। জানা গেছে,ওই হাসপাতালেরই কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন ডক্টর শর্মিলা মল্লিক।
খুব সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ হাসপাতালের একটি অর্ডার কে নিয়ে কার্যত তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। যে অর্ডারে লেখা ছিল রোগী করোনা আক্রান্ত থাকলেও ডেথ সার্টিফিকেট তা উল্লেখ করার দরকার নেই। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী পক্ষের রোষানলে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্ডারের ছবি টুইটারে পোস্ট করেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় লেখেন, ‘মুর্শিদাবাদের এই সরকারি নির্দেশ স্পষ্ট লেখা আছে, যে কোভিড ১৯ কারও থাকলেও তা উল্লেখ না করতে। মমতা সরকার বলুক, এই নির্দেশটা কি ভুল বা ভিত্তিহীন? তা না হলে আমি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে কোর্টে চ্যালেঞ্জ করব।’ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার নবান্নে নির্দিষ্ট কোনও মন্তব্য করেননি মুখ্যমন্ত্রী।
তবে কোনও এক অর্ডারে ভুলের কথা স্বীকার করেন তিনি। এই ঘটনার পক্ষে সাফাই দিয়ে তিনি বলেন অনেক ক্ষেত্রে ছাপার ভুল বা লেখার ভুল হতেই পারে। কিন্তু তা নিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে রাজনীতি না করার কথা বলেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী যাই বলুন না কেন, এই চিঠি নিয়ে সরব হন খোদ বিজেপির রাজ্য
সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মেদিনীপুরের সাংসদের অভিযোগ, রাজ্য করোনায় মৃতের যে সংখ্যা দেখাচ্ছে আসল সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি।
গোপনে দেহ সৎকার করা হচ্ছে বলেও মারাত্মক অভিযোগ তোলেন তিনি, তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুর্শিদাবাদ হাসপাতালের ওই অর্ডার পোস্ট করেন। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ সুপার নিজে লিখিত ভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন যে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে মারা গেলেও রোগীর ডেথ সার্টিফিকেট-এ লেখা যাবে না। এর মাধ্যমে আইসিএমআর-এর নির্দেশিকা সরাসরি অমান্য করা হচ্ছে। এর ফলে কখনোই বাস্তব চিত্র সামনে আসবে না।





