ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা, ভয় ধরাচ্ছে নয়া ভ্যারিয়েন্ট, বড়দিনের আগেই কী ফের চালু হবে কোভিড বিধি?

২০২০ সাল থেকে প্রায় আড়াই বছর ভয়াল রূপ দেখিয়েছে করোনা। মাঝে কিছু মাস একটু স্বস্তি দিলেও ফের নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট। কেরলে এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ মিলতেই কেন্দ্রের হুঁশিয়ারি চিঠি পৌঁছেছে রাজ্যে। এরপরই এই নিয়ে তৎপর হল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর।

কেরলে খোঁজ মিলেছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১-এর। গত একমাসে কেরলে দশজন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। এরপরই উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক করোনা নিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে রাজ্যে। এরপরই মঙ্গলবার এই নিয়ে বৈঠক করল রাজ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যমন্ত্রক স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি জারি করলেও রাজ্যের তরফে সেভাবে কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কারোর খোঁজ মেলেনি। এই নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ‌্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, “কেন্দ্রীয় স্বাস্থ‌্যমন্ত্রকের সঙ্গে বুধবার আলোচনা করবে সব রাজ‌্য। এদিন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসওপি তৈরি রয়েছে, অবস্থা বুঝে ব‌্যবস্থা হবে”।

করোনার নয়া প্রজাতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি যাই হোক আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে বহবে। আসলে করোনা কোনওকালেই পুরোপুরি চলে যায়নি। হাসপাতালে যখন মানুষ মানুষ ভর্তি হয় তখন অনেকেরই করোনা ধরা পড়ে। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তাঁরাই বেশি সংক্রমিত হয়। বিশেষ করে মানুষ যখন অসুস্থ থাকে তখন বেশি আক্রমণ হয়। কিন্তু, যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে তাঁদের ভয় কম। আমি যেমন করোনার সময় ঠেলে ঠেলে করোনা সেন্টারে ঢুকে গিয়েছিলাম”।

এখনও পর্যন্ত রাজ্যে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কোনও রোগীর খোঁজ না মিললেও, বেলেঘাটা আইডি ও এমআর বাঙ্গুরের আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি রয়েছে। চিন্তার কারণ যে রয়েছে তা কলকাতার চিকিৎসকেরাও মেনে নিয়েছেন। চিকিৎসক যোগীরাজ রায় বলছেন, “নয়া ভ্যারিয়েন্ট ক্ষমতা খুব একটা বেশি। কিন্তু, যাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন, যাঁদের কোনও রোগীই ছিল না তাঁদের অনেককেই অক্সিজেনও দিতে হচ্ছে। তাই এটা একটু উদ্বেগের”।

আরও অন্যান্য খবর