সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayet Election)। আবার উত্তর-পূর্বের রাজ্যেও রয়েছে নির্বাচন। এর জেরে বঙ্গ রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি বেশ উত্তাল। উত্তর-পূর্বের রাজ্যেও জমি দখল করতে উদ্যত তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ই। এরই মধ্যে চলছে একে অপরকে শানানো, তোপ দাগা। গত রবিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের (Nisith Pramanik) বাড়ি ঘেরাও করার ডাক দেন। এই কারণে আগামী ১৯শে ফেব্রুয়ারি নিশীথের বাড়ি ঘেরাও করার ডাক দেওয়া হয়েছে কোচবিহার জেলা তৃণমূলের তরফে। এবার এই নিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন নিশীথ প্রামাণিকও।
গতকাল, সোমবার নিশীথ বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করে নেতা হয়েছেন। তিনি রাজনৈতিকভাবে এতটাই অপরিপক্ক যে ওঁর কথা বলতে গেলে হাসি পায়। বিএসএফ সক্রিয় হয়েছে সেই কারণেই নাকি উনি আমার বাড়ি ঘেরাও করবেন। একবার নয় হাজার বার করুন। বাড়িতে বয়স্ক লোকেরা থাকে। যদি আপনার ক্ষমতা থাকে বুকের পাটা থাকে তাহলে দিল্লিতে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করে দেখান। কারণ আমার মন্ত্রণালয় বা অফিস দিল্লির নর্থ ব্লকে। আমার বাড়িতে নয়”।
এখানেই শেষ নয়, নিশীথ আরও দাবী করেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই ধরনের কথা বলছেন। উত্তরবঙ্গের মানুষের থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে রাজবংশীদের অপমান করে ভাইপো এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন যাতে তারা একটা রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গ তথা কোচবিহারে তৈরি করতে পারেন”।
গত রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেছিলেন, “যারা দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে ১২৮ টা পঞ্চায়েতের মধ্যে একটাও ভারতীয় জনতা পার্টির ২০১৮ সালে জিতেছিল সেখানে প্রধানের কি কান্না বিজেপি নেতারা সেই প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন আমি যে অভিযোগগুলো করেছি একটাও তো প্রত্যাখ্যান করতে পারছে না এই যে জব কার্ড আবাস যোজনার এলিজিবিলিটি টেস্ট একটা পরিবারের তিনজন একটা পঞ্চায়েত চালাতে যদি এই অবস্থা হয় তারপর যেখানে থাকে হাইওয়েতে জমির পর জমি। এই অভিযোগ তো আমি করছি না বিজেপির নেতারা করছে”।
সেদিনব কোচবিহারের সভা থেকেও নিশীথের উপর ক্ষোভ বর্ষণ করে অভিষেক বলেন, “আমার নাম করে নৌকা ইত্যাদি প্রতীকে পঞ্চায়েত ভোটে নির্দল প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করিয়েছিল। আমি জেনেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করি। সেই সময় কিন্তু আমি কোচবিহারের দায়িত্বে ছিলাম না। এখন কোচবিহারের দায়িত্ব আমার নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছি। তাই সেই সময় যে সব ভুল হয়েছিল এ বার আর তা হবে না”।
এখানেই শেষ নয়, অভিষেকের কথায়, “কোচবিহারের সমস্যা নিয়ে গত চার বছরে একটি বারের জন্য সংসদে সরব হননি এখানকার বিজেপি সাংসদ। এমনকি কোভিডের সময়ে কোচবিহারের মানুষ কেমন আছেন, তার খোঁজও নেওয়া হয়নি। সেই কঠিন সময়ে আপনাদের পাশে ছিল তৃণমূল”।





