রাস্তায় পড়ে ১ মাসের শিশুকন্যা, আগলে রাখল রাস্তার কুকুর

কোথাও দেবীরূপে কন্যাকে বরণ করা হচ্ছে ২৫ কেজি সোনার গয়না দিয়ে, আবার কোথাও সেই কন্যাসন্তানকেই অবহেলা করে আস্তাকুড়ে ফেলে আসা হয়। একই রূপ, অথচ দুই আলাদা জগত। ভাবতে অবাক লাগে বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কন্যা সন্তানের প্রতি অবহেলার চিত্রটা যেন পালটাচ্ছে না। সৃষ্টির আদি যুগ থেকেই নারীদের প্রতি মুহূর্তে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়েছে।

চতুর্থীর সন্ধ্যে, শহরের চারিদিকে তখন আলো ঝলমল করছে, দুর্গাপুজোর শেষ প্রস্তুতি চলছে, কোথাও কোথাও আবার প্রস্তুতির শেষে নেমেছে মানুষের ঢল। এরই মধ্যে রাস্তায় পড়ে কাঁদছে একটি সদ্যোজাত শিশু। তার কান্না শুনেই হয়ত তাকে চারিদিক থেকে আগলে রেখেছে রাস্তার কিছু কুকুর। একটু কাছাকাছি যেতেই গোটা ব্যাপারটা পরিষ্কার। সদ্যোজাত এক শিশু কন্যাকে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছেন তার মা-বাবা। এক মহিলা এই গোটা ঘটনাটি শেয়ার করেন তার ফেসবুক প্রোফাইলে, সঙ্গে পোস্ট করেন সদ্যোজাতর ছবিও। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছে এই পোস্ট।

ওই মহিলা পোস্টে লেখেন, “সন্ধ্যে ৭ঃ৩০টা নাগাদ মাসির ফোন আসে, বলে, একটা রত্ন পেয়েছি, তোকে পরে সব জানাচ্ছি”। এরপর তিনি লেখেন, “রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আমি মাসিকে ফোন করি, ঘটনা জানতে। মাসি এবং দিদির এক বান্ধবী বাজারে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ গলির মোড়ে একটা কান্নার আওয়াজ পান। এগিয়ে যেতেই চোখে পরে এই ফুলের মতো বাচ্চাটিকে। কয়েকটা কুকুর মিলে তাকে আগলে রেখেছিল”।

সূত্রের খবর, বাচ্চাটিকে সেখান থেকে উদ্ধার করার পরে কামারহাটির সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ওই সদ্যোজাত। চিকিৎসকের থেকে পাওয়া খবরে, ওই শিশুর বয়স মাত্র ১ দিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা তথ্য থেকে জানা গিয়েছে যে, আজ বাচ্চাটিকে বারাসাতের একটি হোমে পাঠানো হবে।

পোস্টে ওই মহিলা আরও জানিয়েছেন যে, যদি কোনও সহৃদয় মানুষ এই সদ্যোজাতের দায়িত্ব নিতে চান, তাহলে বারাসাতের ওই হোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই বাচ্চাটিকে তারা দত্তক নিতে পারবেন।

আরও অন্যান্য খবর