সারা বিশ্বে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনা। তার সাথে মার্চ মাস থেকে লড়ছে দেশ। এবার তার সাথে সাথে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে হানা দিয়েছে সম্প্রতি হানা দিয়েছে পঙ্গপালের দল। কোটি কোটি পঙ্গপালে রোজ খেয়ে সাফ করে দিচ্ছে মাঠের পর মাঠ খাবার। কিছুদিন আগে উড়িষ্যা সরকারও চাষিদের এই পঙ্গপালের বিষয় সতর্ক করেছেন।কিন্তু এবার কি পঙ্গপালের দল হামলা করবে এরাজ্যেও? বাঁকুড়ার শাল জঙ্গলে কিছু পতঙ্গের হামলার ছবি সামনে আসতেই অনেকের মনে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত ২ দিন ধরে কয়েক হাজার পঙ্গপালের মতো কিছু পতঙ্গ হানা দেয় বাঁকুড়ার শাল জঙ্গলে। আর তাতেই আতঙ্কিত হয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার বিকালে। বাঁকুড়ার রাধানগর লাগোয়া লখেশোল শালবাগান এলাকার বাসিন্দারা স্থানীয় শাল জঙ্গলের এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। জঙ্গলে হানা দেওয়া সেই পতঙ্গগুলি সংখ্যায় প্রায় কয়েক হাজারের কাছাকাছি।এক নিমেষেই কাঁচা শালপাতা খেয়ে সাফ করে দিচ্ছে সেই পতঙ্গগুলি।
বিষয়টি নজরে আসতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, সেই এলাকার সমস্ত চাষীরা। ওই এলাকায় ভালো সবজি চাষ হয়। মাঠে এখনও রয়েছে ঝিঙে, লাউ, করলা, ঢ্যাঁড়স সহ বিভিন্ন সবজি রয়েছে। এমনিতেই লকডাউনের ফলে বিঘ্নিত হয়েছে পরিবহন ব্যবস্থা। এরপর তান্ডব চালিয়ে সব কিছু ধ্বংস করেছে আমফান। যার জেরে ভয়ঙ্কর ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় সবজি চাষিরা। তারপর এখন পঙ্গপালের মতো পতঙ্গের হানায় কি এবার সব খাদ্যশস্যও শেষ হয়ে যাবে। এই আশঙ্কাতেই দিন কাটাচ্ছেন এলাকার কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, বোন দফতর তরফে ইতিমধ্যেই ওই পতঙ্গের গতিবিধির উপর ‘নজরদারি’ চালান হচ্ছে। বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের ডিএফও জে ভি ভাস্কর অবশ্য এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলছেন, “যে পঙ্গপাল গুলি উত্তর ও পশ্চিম ভারতে হানা দেওয়া দিয়েছিল সেই পঙ্গপালের সাথে এদের সম্পর্ক নেই। এরা সমগোত্রীয় বটে তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা অনুযায়ী এগুলি স্থানীয়ভাবেই বসবাস করে।”





