বিভিন্ন রকম ফিজ দিতে দিতে জেরবার অভিভাবকরা, বেসরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে এবার একজোট হলেন তারা

রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টায় বহু বেসরকারি স্কুলে বর্ধিত ফি কমেছে। কিন্তু স্টেশনারি দ্রব্য বা এক্সট্রা ক্যারিকুলার এক্টিভিটিস বা অন্যান্য বিভিন্ন জিনিসের নাম করে যে ফিজ অভিভাবকদের থেকে এই লকডাউনের বাজারেও বেসরকারি স্কুলগুলো নিচ্ছে তা রীতিমত সমস্যায় ফেলেছে অভিভাবকদের।

এই লকডাউনের বাজারে অনেকের রোজগার বন্ধ, যারা চাকরিজীবী তারাও কম মাইনে পেয়েছেন। ফলে সন্তানের ভবিষ্যৎ কীভাবে সুরক্ষিত করবেন অনেকেই তা ভেবে পাচ্ছেন না। এই সময় স্কুল থেকেও কিছুটা মানবিক আচরণের প্রত্যাশা করেছিলেন তারা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে মানবিক আচরণ তো তারা পান ই নি। উপরন্তু এও বলা হয়েছে যে স্কুলের উল্লিখিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে এডমিশন সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হবে।

এর বিরুদ্ধে এবার সরব হয়েছেন বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবকরা। কৈখালির মঙ্গলম বিদ্যা বিদ্যানিকেতনের এক অভিভাবিকা জানিয়েছেন, স্কুল থেকে মে মাসের মধ্যে সমস্ত ফিজ মেটাতে বলা হয়েছে। স্কুলের টিউশন ফি অপরিবর্তিত থাকলেও স্টেশনারি ফি হিসেবে অভিভাবকদের থেকে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়েছে স্কুলের তরফ থেকে। যদিও এই স্কুলও প্রথমে টিউশন ফি বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল কিন্তু পরবর্তীতে অভিভাবকদের চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয় স্কুল। বর্তমানে অভিভাবকরা জানিয়েছেন যে স্টেশনারি দ্রব্য তাদের দরকার নেই তখন স্কুল থেকে জানানো হয়েছে যে যদি টাকা না দেওয়া হয় তবে তাদের শিশুদের ভর্তি আটকে দেওয়া হবে স্কুলের তরফে। ফলে তিনি এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না। তারা অভিভাবকরা মিলে একটি অনলাইন পিটিশন শুরু করবেন বলেও ভাবছেন।

তার মতই আরও অনেক অভিভাবক সমস্যায় পড়েছেন। যারা ব্যবসা করেন তারা পড়েছেন আরও বিপাকে। সোমবার যেমন রানিকুঠির জিডি বিড়লা সেন্টার ফর এডুকেশনে পাঠরত বাচ্চাদের অভিভাবকরা পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্কুলের সামনে সামিল হয়েছিলেন। জিডি বিড়লার অভিভাবক ফোরামের সভাপতি সঞ্জয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “যেসব অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় ফি নেওয়া হচ্ছে সেগুলো আপাতত বন্ধের আবেদন করে তিন তিনবার স্কুলকে ই-মেইল করেছি। একবার উত্তর মিলেছে। আর কোন কথাই বলছে না উল্টে ফি জমার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, লকডাউনের ঠিক আগে সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ফি বৃদ্ধি নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছিল। পরে অবশ্য স্কুল জানায় যে, ফি বাড়ানো হচ্ছে না এবং এখনও পর্যন্ত যারা ফি জমা করতে পারেননি ১৫ই জুন পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হচ্ছে এবং এই পর্বে লেট ফাইনও নেওয়া হবে না।

প্রায় একই রকমের সমস্যা চলছে ইন্দাস ভ্যালি স্কুল ও গোখেল মেমোরিয়াল স্কুলে। ইন্দাস ভ্যালি স্কুলের অভিভাবকরা যেমন মামলা করার কথা চিন্তা ভাবনা করছেন তেমনই গোখেলের বাচ্চাদের অভিভাবকরা একটি অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর জমা করা শুরু করেছেন।

শহরের বেসরকারি স্কুলগুলোতে পাঠরত পড়ুয়াদের অভিভাবকদের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরামের তরফে সুপ্রিয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তারা এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, মানবাধিকার ও শিশু কমিশনের দ্বারস্থ হবেন। এই সপ্তাহেই চিঠি পাঠাবেন এই বিষয়ে।

RELATED Articles

Leave a Comment