ফের ফিরল সেই চেনা দৃশ্য। রাস্তার বেহাল দশার কারণে ঢুকতে পারে নি অ্যাম্বুলেন্স। সেই কারণে মুমূর্ষু রোগীকে খাটিয়ায় বেঁধে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। কিছুদিন আগে মালদহে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। এভাবেই খাটিয়ায় বেঁধে অন্তঃসত্ত্বা বধূকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। সেই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই একই ঘটনা এবার দেখা গেল মুর্শিদাবাদের ভবানন্দপুর গ্রামে।
ওই গ্রামের গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, স্বাধীনতার এতদিন পরও তাদের গ্রাম যেন স্বাধীন হয়নি। চার চাকার গাড়ি ঢোকার মতো রাস্তা নেই সে,খানে। ফলে গ্রামে ঢুকতে পারে নি অ্যাম্বুলেন্স। এর জেরে মুমূর্ষু রোগীকে খাটিয়ায় বেঁধে চারজনে চারদিক থেকে কাঁধে নিয়ে রওনা দিল হাসপাতালের পথে।
এমন ঘটনার ভিডিওই ভাইরাল এই মুহূর্তে
এই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মৃতদেহ বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো করে এক রোগীকে বাঁশের খাটিয়ার সঙ্গে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। চারজন গ্রামবাসী মিলে বাঁশ দিয়ে স্ট্রেচারের মতো তৈরি করেছেন। তাতে করেই রোগীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে।
গ্রামে অ্যাম্বুল্যান্স কিংবা সাধারণ যান চলাচলের মতো রাস্তা নেই। ফলে বাধ্য হয়েই এই পন্থা নিতে হয়েছে গ্রামবাসীদের। ঘনঘন এমন বেহাল রাস্তার জন্য খাটিয়ায় করে রোগী নিয়ে যাওয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
কী জানাচ্ছেন গ্রামবাসীরা?
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সেই ২০০৯ সালে ১০০ দিনের প্রকল্পে জমির আলে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি হয়েছিল। এরপর থেকে আর সরকার এইদিকে ঘুরেও তাকায়নি। গোটা বছর ধরেই রাস্তায় কাদামাটি থাকে। আর বর্ষাকালে তো চরমে পৌঁছয় গ্রামবাসীদের ভোগান্তি। এভাবেই বছরের পর বছর দিনযাপন করছেন তারা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বেহাল রাস্তার কারণে তাদের এলাকার উন্নতি হচ্ছে না। নানান বিষয় থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দুয়ারে রেশন চালু হলেও গ্রামবাসীদের বাড়িতে তা আসছে না। রাস্তার বেহাল দশার কারণে সময়ে স্কুলে আসতে পারছেন না শিক্ষকরা। ফলে স্কুলের পড়াশোনাও ধাক্কা খাচ্ছে। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য সব কিছুতেই বঞ্চিত কান্দি শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দুরের এই ভবানন্দপুর গ্ৰাম।





