আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের হদিশ, পুলিশের জালে বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কর্মীর স্বামী-সহ ৮

ফের রাজ্যে হদিশ মিলল আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের থেকে পেন ড্রাইভ, অসংখ্য ডেবিট কার্ড, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ, হিয়ারিং যন্ত্র, প্যান কার্ড, মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। আজ, শনিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বাকিদের সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

কোথায় চলছিল এই প্রতারণা চক্র?

সূত্রের খবর, ডানকুনি থানার চাকুন্দি এলাকার ‘আমার বাংলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল’ কমপ্লেক্সের একটি গোডাউনে ফাঁদ পেতে বসে রমরমিয়ে চলছিল এই প্রতারণা চক্র। বিদেশে চলত এই চক্র। গতকাল, শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই গোডাউনে অভিযান চালায় চন্দননগর থানার পুলিশ। সেখান থেকে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গিয়েছে, এই ধৃতরা ‘ম্যাক্সটেকনো’ নামের একটি ভুয়ো কল সেন্টার খুলে এই প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিল বিদেশে। প্রায় মাস দুয়েক আগে এই গোডাউন ভাড়া নেওয়া হয়। সেই থেকেই ব্যবসা ফেঁদে বসেছে অভিযুক্তরা। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হল- সিরিপুরম কামেশ্বর রাও, রাহুল কুমার শাহ, সিরিপুরম লক্ষ্মী নারায়ণ আচারী, বাপি দাস, সামির হোসেন, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, এমডি জাভেদ আলম, এমডি ফয়জান আলান, জন্টি ও এমডি মোস্তাফা। তবে সবথেকে চমকপ্রদ ব্যাপার হল ধৃতদের মধ্যে যিনি দেবাশিস মুখোপাধ্যায় রয়েছেন, তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি এক জনপ্রিয় বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের কর্মী স্বামী।

কীভাবে চলত এই চক্র?

জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা মূলত বিদেশের প্রৌঢ় নাগরিকদের টার্গেট করত। পুলিশ সূত্রে খবর, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডার মতো নানান দেশের নাগরিকদের সঙ্গে চলত প্রতারণা। তাদের মেইল পাঠিয়ে এনিডেস্কের মতো অ্যাপ ডাউনলোড করিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতানো হত। এমনকি, নামী অনলাইন সংস্থার প্রতিনিধি সেজে প্রতারিতদের ফোন করে নানান লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত বলে খবর। আর সেই লোভের চক্করে পড়লেই ফাঁকা হয়ে যেত ব্যাঙ্ক ব্যাল্যান্স।

ওই গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে কম্পিউটার, কী বোর্ড, বেশ কিছু কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে ডানকুনি থানার পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/ ৪৭১/ ১২০বি ও ভারতীয় টেলিগ্রাফ আইন ১৮৮৫র ২০/২০এ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে চাইবে পুলিশ। পুলিশের অনুমান, এই ভুয়ো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আরও অনেক ভুয়ো কোম্পানি যুক্ত থাকতে পারে। ধৃতদের জেরা করলে আরও প্রতারণা চক্রের হদিশ মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

RELATED Articles