কলকাতার বুকেই চলছে অস্ত্র বিক্রির রমরমা, পুলিশের জালে আটক দুই যুবক

শহরের বুকেই চলছে বেপরোয়া অস্ত্র বিক্রি। এর জেরে গ্রেফতার করা হয়েছে দুজনকে। একবালপুর এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। গত মঙ্গলবার রাতে মোমিনপুর মোড় থেকে গ্রেফতার করা হয় শেখ সাদ্দাম নামের এক যুবককে। তার থেকে একটি ওয়ান সাটার ও ২ রাউন্ড কার্তুজ মিলেছে বলে খবর। কলকাতায় অস্ত্র বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিল তারা, এমনটাই জানা গিয়েছে। সেই যুবককে জেরা করে তার অন্য এক সঙ্গী বাবলু আরিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

কিছুদিন আগেই হুগলীর ডানকুনি টোল প্লাজার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়। স্বামী- স্ত্রী সেজে ধানবাদ থেকে কলকাতামুখী একটি বাসে উঠেছিল তারা। তাদের থেকে উদ্ধার হয় ৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্রাদির যন্ত্রাংশ।

বিহারের মুঙ্গের থেকে চোরাপথে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গে পাচার করা হয়ে আসছে অনেক সময় আগে থেকেই। কিন্তু আগে অস্ত্র পাচারকারীরা ছোটো গাড়িতে বা সবজি গাড়িতে লুকিয়ে অস্ত্র পাচার করত। এখন পাচারের ধরন বদলে গিয়েছে। পুলিশের নজর এড়াতে কখনও বাইকে, কিংবা যাত্রীবাহী বাসেও অস্ত্র পাচার করা হয়।

কিছু মাস আগেই রাজ্যে ভোট চলাকালীনও একই ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হয় প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র। একজনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। সেই সময় জানা যায় এসটিএফ ও সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ ডাকবাংলো পাকুর সড়কে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর পরিমাণে বোমা তৈরির সরঞ্জাম।

সেই সময় গ্রেফতার করা হয় টেম্পু মণ্ডলকে। পুলিশ সূত্রে খবর, টেম্পু বিহারের বাসিন্দা। মুঙ্গেরের শাকহারাটোলায় তাঁর বাড়ি। তাঁর কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, কার্তুজ ও প্রচুর বোমা তৈরির মশলা উদ্ধার হয়।

এরপর ভোট মিটতেই ফের বরাকরে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নামে এসটিএফ । কুলটি থানার বরাকরের বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকায় নাকা চেকিংয়ের সময় ২৫ টি ৭ এমএম পিস্তল ও ৪৬ টি ম্যাগাজিন-সহ আস মহম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে, রাজ্যে কোথায় এই অস্ত্র পাচার করা হচ্ছিল। এই যুবক কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্যে আদৌ কোনও নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল কিনা, কিংবা কোনও দাগী অপরাধীর হাত রয়েছে কিনা, সে সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

RELATED Articles