বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মা নবী হজরত মহম্মদকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে রাজ্য তথা গোটা দেশে কার্যত বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। বাংলার নানা প্রান্তে সংখ্যালঘু মানুষদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করতে দেখা গিয়েছে। হাওড়াতে যে হিংসার ঘটনা ঘটে, সেখানে পরিস্থিতি এখন কিছুটা শান্ত হলেও, বারাসাতে নতুন করে ফের বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
আজ, সোমবার উত্তর ২৪ পরগণার বারাসাতের কাজিপাড়ার কাছে রেললাইনে আগুন ধরিয়ে দেয় কিছু বিক্ষোভকারী। ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এর জেরে সপ্তাহের প্রথম দিনেই দুর্ভোগ চরমে উঠেছে নিত্যযাত্রীদের। রেল অবরোধের কারণে যাত্রীদের কষ্ট যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
এদিন সকালেই কাজিপাড়ার কাছে রেললাইনে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখায় কিছু বিক্ষোভকারীরা। এরপরই শুরু হয় অবরোধ। এর জেরে শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখার ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। দাঁড়িয়ে পড়েছে ট্রেন। তবে পরবর্তীতে এই অবরোধ তোলে পুলিশ।
উল্লেখ্য, বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার হজরত মহম্মদ সম্পর্কিত মন্তব্যের কারণে গত বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়াতে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখে মুসলিমরা। নবান্নের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হলেও কোনও লাভ হয়নি। প্রায় ১১ ঘণ্টা অবরোধ থাকে। এর জেরে চরম ভোগান্তি পোহায় সাধারণ মানুষ।
এরপর গত শুক্রবার সলপে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ। ধূলাগড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে বিক্ষোভকারীরা। এর জেরে গতকালই গোটা হাওড়া জেলার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। হিংসা ঠেকাতে উলুবেড়িয়ার একাধিক জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে সরকারের তরফে। শুধু হাওড়াই নয়, মুশিদাবাদ ও নদিয়ার একাধিক এলাকায় এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু এরপরও যেন বিক্ষোভের আঁচ কমছে না। এর জেরে সাধারণ মানুষকেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাজ্যে চলছে চরম অরাজকতা।





