পঞ্চায়েত নির্বাচনকে আপাতত পাখির চোখ করেছে তৃণমূল। এই জন্য শুরু হয়েছে নতুন কর্মসূচি ‘ দিদির সুরক্ষাকবচ’। নানান তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা যাচ্ছেন রাজ্যের নানান এলাকায়। এবার বীরভূমের দুবরাজপুরে গিয়ে আমজনতার রোষের মুখে পড়লেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।
আজ, শুক্রবার বেলার দিকে ‘দিদির সুরক্ষাকবচ’ কর্মসূচির প্রচারে বীরভূমের দুবরাজপুর গিয়েছিলেন দেবাংশু। সেখানে তাঁকে দেখেই নিজেদের নানান অভিযোগ জানান স্থানীয়রা। বেশ ক্ষোভ জারি করেন সকলে তৃণমূল নেতার উপর। আর অভিযোগের ঝুলি বাড়তেই দেবাংশুকে সেখান থেকে তড়িঘড়ি সরিয়ে নিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
এদিন দেবাংশুকে সামনে পেয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসাথী, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন তারা। তবে বেশিরভাগেরই অভিযোগ ছিল যে আবাদ যোজনায় তারা বাড়ি পাচ্ছেন না।
এদিন দেবাংশুকে তারা জানান যে তাদের মাটির বাড়ি, কোথাও বাড়ির অংশ ভেঙে গিয়েছে, তা সত্ত্বেও তারা বাড়ি পাচ্ছেন না কিন্তু যাদের নিজস্ব পাকাবাড়ি রয়েছে, এলাকার কাউন্সিলর বা কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ লোকজন ঠিক বাড়ি পাচ্ছে। অভিযোগ শুনে দেবাংশু পাল্টা দাবী করেন যে কেন্দ্র সরকার থেকে ঠিকঠাক টাকা পাঠানো হচ্ছে না বলে এমন ঘটনা ঘটছে। অনেকেই ঘর পাচ্ছেন না। কিন্তু কিছুদিন আগেই যে কেন্দ্র থেকে আবাস যোজনায় টাকা বরাদ্দ করা হল, সেটা তাহলে কী?
এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা এও অভিযোগ করেন যে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও তাদের শৌচালয়ের কাজ হয়নি। এ নিয়ে পুরসভায় অভিযোগ করলেও, তাতে কর্ণপাত করা হয় না বলে অভিযোগ জানান তারা। এদিন দেবাংশুকে ঘিরে সাধারণ মানুষের এত বেশি অভিযোগ ওঠে যে তাঁকে সেখানে বেশিক্ষণ থাকতেই দেন না স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। অন্য জায়গা সভা রয়েছে, দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে দেবাংশুকে রীতিমতো জোর করে বগলদাবা করেই সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান তারা।
কিন্তু এবার প্রশ্ন একটাই। এই কর্মসূচি তো আনাই হয়েছে সাধারণ মানুষ যারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না, তাদের চিহ্নিত করার জন্য। তাহলে স্থানীয় বাসিন্দারা যখন নিজেদের অভিযোগ জানাচ্ছিলেন সেই সময় তড়িঘড়ি ব্যস্ততার সঙ্গে দেবাংশুকে অন্য সভার নাম করে সেখান থেকে কেন টেনে নিয়ে গেলেন স্থানীয় নেতৃত্বরা? নিজেদের অকর্মণ্যতা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে নয় তো? এমন নানান প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে ওয়াকিবহাল মহল।





