অফিস টাইমে ২০০-এর বেশী ট্রেন চালানোর আর্জি রেলের, ভিড় ঠেকানো নিয়েও থেকে যাচ্ছে সংশয়

রাজ্যে লোকাল ট্রেন চালু করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার হতে চলেছে চূড়ান্ত বৈঠক। এর আগে আজ, বুধবার এ নিয়ে ফের একবার বৈঠকে বসল রাজ্য ও রেল। এদিন রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, পরিবহন সচিব ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আধিকারিকরা প্রায় ২ ঘণ্টা বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া ও শিয়ালদহ শাখার ডিআরএম এবিং পূর্ব রেলের চিফ অপারেশন ম্যানেজার।

করোনা পরিস্থিতিতে সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে কীভাবে সুষ্ঠুভাবে লোকাল ট্রেন চালু করা যায়, এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয় আজকের বৈঠকে। রেলের তরফ থেকে সকালে ও বিকেলে অফিস টাইমে হাওড়া ও শিয়ালদহ শাখা মিলিয়ে মোট ২০০-এর বেশী ট্রেন চালানোর কথা বলা হয়। এই নিয়ে রাজ্যের তরফ থেকে প্রশ্ন ওঠে যে তাহলে রাজ্যের ছোটো ও বড় বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের ঢোকা ও বেরোনো নিয়ে কী কী নির্দেশিকা জারি করা হবে। এছাড়া, অফিস টাইম ছাড়া বাকী সময় কোন কোন রুটে ট্রেন চলবে, এ নিয়েও একটি তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

চলতি সপ্তাহের সোমবারের বৈঠকে স্থির হয় যে শুরুতে একটি লোকাল ট্রেনে মোট ৬০০ জন যাত্রী উঠতে পারবেন। কিন্তু এ নিয়েও যথেষ্ট সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কারণ লোকাল ট্রেন পরিষেবা শুরু করলেই সাধারণ মানুষ ওইদিকেই ঝুঁকবে, এমন অবস্থায় কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবপর হবে, এ নিয়েও রেলকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয় রাজ্যের পক্ষ থেকে।

এদিনের বৈঠকে রাজ্য সরকার জানতে চায় যে, যদি কোনও সময় ৬০০জনের বেশী যাত্রী প্ল্যাটফর্মে থাকে এবং ভিড় জমায়েত হয়, তবে তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তাছাড়া, কোনও স্টেশনে যাতে ভিড় তৈরি না হয় এবং রেলপুলিশ যাতে এই ব্যাপারে যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, এ বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয় আজকের বৈঠকে। কারণ বিগত কয়েকদিনে রেলকর্মীদের জন্য বরাদ্দ স্পেশাল ট্রেনে ওঠা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশনে সাধারণ মানুষ যেভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তা এখন রীতিমতো উদ্বেগ তৈরি করেছে রাজ্য সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষের জন্য।

লোকাল ট্রেন চালু করলেও করোনা স্বাস্থ্যবিধির কথা একেবারেই ভুললে চলবে না, এও পরিষ্কার জানানো হয় রাজ্যের তরফ থেকে। সব যাত্রীরা মাস্ক পরছেন কী না বা সামাজিক দুরত্ব মেনে চলা হচ্ছে কী না, সেদিকেও যথেষ্ট লক্ষ্য রাখা দরকার। স্টেশনে সকল যাত্রীর যাতে থার্মাল স্ক্রিনিং ও স্যানিটাইজেশন হয়, এই নিয়ে রেলকে আগেই সতর্ক করেছে রাজ্য। এছাড়াও, গ্যালোপিন ট্রেন চালানোর কথাও ভাবা হয়েছে। বিনা টিকিটে যাতে কেউ যাত্রা না করেন, এর জন্য টিকিট পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে রাজ্যের পক্ষ থেকে। স্টেশনগুলি হকারমুক্তও করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

RELATED Articles