সকালের রোদ, দুপুরের উত্তাপ আর সন্ধ্যার ভ্যাপসা হাওয়া—রাজ্যবাসীর এই পরিচিত দৃশ্যই যেন দিনের পর দিন আরও যন্ত্রণার রূপ নিচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম, সবাই চাতক পাখির মতো অপেক্ষায়, কবে একটু স্বস্তির হাওয়া বইবে, কবে আকাশে মেঘ জমবে আর কিছুটা হলেও ঠান্ডা মিলবে। কলকাতার রাস্তায় ঘাম ঝরানো মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—”আর কতদিন এই গরম?”
কেউ আবার ঠাণ্ডা পানীয়র দোকানে ভিড় করছেন, কেউ বা রিকশার ছায়ায় একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন। বিদ্যুতের ভেলকিতে ফ্যান চললেও গায়ে যেন লেগে থাকছে আর্দ্রতার আঠা। এমন সময় বৃষ্টির নাম শুনলেই চোখে-মুখে হাসি ফুটছে। কিন্তু শুধু বৃষ্টি নয়, মানুষ চাইছে প্রকৃতির একটা রূঢ় ঝাঁকুনি—যা গরমের জ্বালা ধুয়ে মুছে দেবে। আর সেই স্বস্তির বার্তাই যেন এবার দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় শুরু হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি। দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে বইতে পারে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া। তবে এখনই পুরো ছবি স্পষ্ট নয়। ধাপে ধাপে বাড়তে পারে প্রভাব। বিশেষ করে দুপুর ও বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান জেলায়। এই জেলাগুলিতে জারি করা হয়েছে ‘হলুদ সতর্কতা’। অর্থাৎ, স্থানীয়দের সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
আরও পড়ুনঃ Ssc scam : চাকরির দাবিতে মুখ খুলতেই পুলিশের মার! ফের রাস্তায় আহত শিক্ষক-শিক্ষিকারা !
আগামী ২২ মে পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বজায় থাকতে পারে এই ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব। এর জেরে রাজ্যের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অর্থাৎ, আপাতত কিছুদিন গরম এবং আর্দ্রতা থেকে স্বস্তি মিলতে চলেছে সাধারণ মানুষের। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার আগে এমন টানা ঝড়-বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের জলবায়ুতে সাময়িক পরিবর্তন আনতে পারে। সেইসঙ্গে প্রকৃতিও খানিকটা শান্ত হতে পারে এই স্বস্তির ঝাপটায়।





