চাকরিপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ মামলা পুলিশের, অনেকেরই নিয়োগ আটকে যেতে পারে, কেস ডায়েরি তলব বিচারপতির

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে সুপ্রিম কোর্ট ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে যাতে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় দ্রুত তদন্ত শেষ করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টে ফিরে গিয়েছে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত মামলা। হাইকোর্টের তরফে গঠন করা হয়েছে বিশেষ বেঞ্চ। এর ফলে আগামী বছর থেকেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তবে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে পুলিশের দায়ের করা মামলা।

এই নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। আজ, মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলা ওঠে হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে। এদিন মামলাকারীদের আইনজীবী অর্ক চৌধুরী বলেন, “নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদে চাকরিপ্রার্থীরা আন্দোলন করছেন। তাঁরা কোথাও কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি করলেই মামলা দিচ্ছে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ। একেক জন চাকরিপ্রার্থীর নামে মামলার পাহাড়! পুলিশ কেসের জেরে শেষে না ওদের চাকরি আটকে যায়। তাই পুলিশের দায়ের করা ওই সব মিথ্যে মামলা থেকে অব্যাহতির আর্জি জানানো হয়েছে”।

এদিন এই মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি প্রশ্ন রাখেন, “নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করে চাকরিপ্রার্থীরা কী বেআইনি কাজ করছে? তারা তো আদালতের  নির্দেশ মেনেই প্রতিবাদ ধর্নায় বসেছে”।

সূত্রের খবর, করোনা পরিস্থিতির সময় চাকরিপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ, কোভিড প্রটোকল ভঙ্গ করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবী তপন মুখোপাধ্যায় বলেন, “চার্জশিট তৈরি আছে। কিছু মামলায় চার্জ ফ্রেম এর সময় এসে গেছে। তদন্ত চলছে। এখন আর এফআইআর বাতিল করা যাবে না”।

এদিন চাকরিপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা সব মামলার কেস ডায়েরি তলব করেন বিচারপতি। আদালতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “এটা দুর্ভাগ্যজনক। সরকারি আইনজীবীর এই যুক্তি খুবই দুর্বল। এফআইআর বাতিলের আবেদনের এটাই সঠিক সময়। আপনি তৈরি হয়ে আসুন। আপনার যুক্তি মানা যাচ্ছে না”। আগামী ৮ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেদিনই চাকরিপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলা নিয়ে বিচারপতি চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।  

আরও অন্যান্য খবর