রাজ্যের অন্যতম বড় সরকারি হাসপাতাল আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল—যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসার আশায় ভিড় করেন। কিন্তু সেই হাসপাতাল ঘিরেই বারবার উঠছে অব্যবস্থার অভিযোগ। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি যেন নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে, সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ঠিক কতটা টিকে আছে? বিশেষ করে যখন একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়ছে রোগী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিমতার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সামন্ত (৬০) রবিবার ভোরে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং নাক দিয়ে রক্তপাতের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ তাঁকে ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করা হয়। প্রথমদিকে চিকিৎসাও শুরু হয় বলে দাবি পরিবারের। কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই হঠাৎ শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় তাঁর—আর সেই প্রয়োজনই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ।
পরিবারের অভিযোগ, ট্রমা কেয়ারের আশেপাশে কোনও শৌচালয় না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাইরে সুলভ শৌচালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। বলা হয়, গেটের কাছে অবস্থিত শৌচালয় ব্যবহার করতে হবে। সেই সময় স্ট্রেচার চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি পরিবারের। বাধ্য হয়ে অসুস্থ অবস্থাতেই প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিটার হেঁটে যেতে হয় তাঁকে। শুধু তাই নয়, ওই শৌচালয়ে পৌঁছতে সিঁড়ি দিয়েও উঠতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এই অবস্থাতেই মাঝপথে আচমকা অচৈতন্য হয়ে পড়েন বিশ্বজিৎবাবু। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত এমার্জেন্সিতে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, পুরো ঘটনাকালীন হাসপাতালে পর্যাপ্ত সাহায্য মেলেনি—না স্ট্রেচার, না কোনও সহায়তা। তাঁদের দাবি, যদি সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হত, তাহলে হয়তো এই মৃত্যু এড়ানো যেত। ঘটনাকে ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।
আরও পড়ুনঃ তিথি বসুর বাবা কি সত্যিই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী? ‘মা’-এর ঝিলিকের সঙ্গে ব্রাত্য বসুর সম্পর্ক কী? অবশেষে খোলসা করলেন অভিনেত্রী!
এই ঘটনার পর ফের চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, যদিও এখনও তাঁদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সরাসরি রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নিশানা করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন, যার মাধ্যমে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে পরপর এমন ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক কতটা? মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবার মান নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি।





