সরকারি বিধিকে অগ্রাহ্য করে স্কুল শুরু হাওড়ায়, মাস্ক পড়ায় নিষেধাজ্ঞা!”শিশুরা করোনা আক্রান্ত হয়না”, সাফাই রেক্টরের

করোনা সংক্রমণ কি ভারত ছেড়ে চলে গেছে? হাওড়ার  শিবপুরের শিশুতীর্থ বিদ্যালয়মণ্ডলী নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড তো তাই বলছে।

করোনা কে রুখতে যখন দেশজুড়ে চলছে টিকাকরণ, তখনই কোভিড-বিধির তোয়াক্কা না করেই শিশুদের নিয়ে ক্লাস শুরু করে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

এখন‌ও পর্যন্ত স্কুল কলেজ খোলার কোন‌ও সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়নি। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ খোলার অনুমোদনও দেয়নি রাজ্য সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসে স্কুল খোলা হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কিন্তু তার মধ্যেই এই গুরুতর অপরাধ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাফাই দিয়ে জানিয়েছে, স্কুল খোলেনি। শিশুরা বাড়িতে থেকে দুষ্টুমি করছে, তাই তাদের খেলাচ্ছলে নাকি পড়ানো হচ্ছে।

আর সেই খেলাচ্ছলে পড়ানোর মধ্যে মানা হচ্ছে না কোনরকম করোনা সতর্কতা বিধি। শিবপুরের ওই শিশু বিদ্যালয়ে গত ১৪ই জানুয়ারি থেকে পুরোদমে ক্লাস শুরু হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, স্কুল চালু করে সেখানে শিক্ষিকারা বেলা ১১টা থেকে ২টো পর্যন্ত ক্লাস নিচ্ছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, স্কুলে ঢুকলে কোনও ভাবেই মাস্ক পরা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, মাস্ক পরলে দেহে অক্সিজেনের অভাব ঘটবে। মাস্ক পরছেন না শিক্ষিকারাও।

ওই স্কুলের ছবি দেখলে রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে যেতে হয়। কোনও শিক্ষিকার মুখে মাস্ক নেই। ক্লাসে পাশাপাশি বসে থাকা শিশুদের মুখেও নেই মাস্ক। এমনকি, গোটা স্কুলে কোথাও নেই জীবাণুনাশের ব্যবস্থাও।

রাজ্যের সব স্কুল যখন বন্ধ, তখন সরকারি নির্দেশের তোয়াক্কা না করে কেন খোলা হয়েছে স্কুল? কেনই বা মানা হচ্ছে না কোভিড-বিধি? স্কুলের দুই শিক্ষিকা স্বাগতা চক্রবর্তী ও সর্বাণী দত্ত বলেন, ‘‘কর্তৃপক্ষ স্কুল চালু করে দিয়েছেন, তাই আমাদের আসতে হচ্ছে। রেক্টর যেমন নির্দেশ দিয়েছেন, সেটাই পালন করছি। তিনি স্কুলের মধ্যে মাস্ক না পরার নির্দেশ দিয়েছেন।’’

একই বক্তব্য স্কুলের ডেপুটি রেক্টর বীথিকা মিত্রের। তিনি বলেন, ‘‘শিশুরা দীর্ঘদিন বাড়িতে থেকে বিরক্ত হয়ে গিয়েছে। ওদের তাই স্কুলে এনে খেলাচ্ছলে পড়ানো হচ্ছে। আর রেক্টর বলেছেন মাস্ক না পরতে। সেটাই আমরা মেনে চলছি।’’

আর কি বলছেন শিক্ষিত হয়েও অশিক্ষিতের মতো নির্দেশ দেওয়া স্কুলের রেক্টর সুখরঞ্জন মুখোপাধ্যায়?  তাঁর কথায়, ‘‘আমি জানতাম শিশুরা কোভিডে আক্রান্ত হয় না। যদি এটা আমার অজ্ঞতা হয়, তা হলে আমারই ভুল হয়েছে।’’ এক‌ই সঙ্গে তিনি জানান,‘‘স্কুল খোলেনি। কোচিং ক্লাস হিসেবে চলছিল। এলাকার বাসিন্দারা না চাওয়ায় সেটাও আগামী কাল থেকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। অনেক দিন পড়ুয়ারা পড়াশোনার মধ্যে নেই, তাই ক্লাস শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলাম। এটা ঠিকই যে স্কুলে মাস্ক না পরার নির্দেশ দিয়েছি। কারণ মাস্ক পরলে শিক্ষিকা বা পড়ুয়া কেউই কারও কথা বুঝতে পারবে না।’’

আরও অন্যান্য খবর