সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন পার্থ, এবার সমাজ থেকেও বহিষ্কার! মন্ত্রিত্বের পর এবার বেহালার সমস্ত পুজো কমিটি থেকেও অপসারণ করা হল প্রাক্তন মন্ত্রীকে

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে টাকার পাহাড়। এমন আবহে দলকে পাশে পান নি পার্থ। শুধুমাত্র সমস্ত মন্ত্রিত্বের পদ থেকেই নয়, তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁকে। এবার পালা সমাজ থেকেও বহিষ্কার হওয়ার।

সত্যিই একের পর এক ঘটনায় বিদ্ধ হচ্ছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। দলের পদ তো হারিয়েছেনই, এবার সামাজিকভাবেও যেন বহিষ্কার করা হল পার্থকে। তৃণমূলের ধারা বজায় রেখেই বেহালার নানান পুজো কমিটি থেকেও এবার অপসারণ করা হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। বেহালা পূর্ব ও পশ্চিম মিলিয়ে অন্ততপক্ষে ২০০টি দুর্গাপুজো হয়। এর প্রায় ৭৫ শতাংশ পুজো কমিটির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন পার্থ। কোনও কমিটিতে পৃষ্ঠপোষক, তো কোনও কমিটির পরামর্শদাতা ছিলেন তিনি। কিন্তু এক ধাক্কায় সবটাই খোয়ালেন। গ্রেফতারির পরই বেশিরভাগ পুজো কমিটিই ত্যাগ করল পার্থকে।

বরিশার একতা সংঘের দুর্গা পুজোতে বহুকাল ধরেই সভাপতি ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।। কিন্তু সেই পদ থেকেও তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। বনমালী নস্কর রোডের বেহালা ক্লাবের দুর্গোৎসব এবছর ৭৮ বছরে পা দেবে। ২০০১ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই পার্থ এই দুর্গোৎসব কমিটিতে যুক্ত হয়ে পড়েন। এবছর তাকে সরানো হয়েছে এই পদ থেকে।

বেহালার দেবদারু ফটকের দুর্গাপুজো এবছর সুবর্ণ জয়ন্তীতে পড়বে। গত দুই দশক ধরে ওই পুজো কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন পার্থ। সেই কমিটি বহিষ্কার করেছে তাঁকে। বরিশা অঞ্চলেও কিছু আবাসনের পুজোয় প্রত্যেক অষ্টমীর দিন ভোগ খেতে তিনি। এই আবাসনগুলির পুজো কমিটির কিছু পদে ছিলেন পার্থবাবু। কিন্তু ক্লাবগুলির মতোই এই আবাসনগুলিও ত্যাগ করেছে পার্থকে।

বেহালা পূর্ব থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিদায়ের পর এখানকার পুজো কমিটি গুলির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন পার্থ। এবার এই সমস্ত কমিটি থেকে বহিষ্কারের পর সেই জায়গায় স্থানীয় কাউন্সিলরদের বসানোর কথা ভাবছে ওই দুর্গাপুজো কমিটিগুলি।

RELATED Articles