বোমা বাঁধার সময় ঘটে গেল বড় অঘটন। বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণের জেরে উড়ে গেল বাড়ির ছাদ। ঘটনায় মৃত্যু ৩ জনের। বেশ কয়েকজন জখম হয়েছে বলে খবর। কারোর খোঁজ মিলছে না। এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিপুল উত্তেজনা এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়ার খয়েরতলায়। মৃতদের নাম মুস্তাকিন শেখ, মামন মোল্লা ও সাজিরুল ইসলাম। এদের মধ্যে মুস্তাকিন মহাতাব কলোনির বাসিন্দা আর বাকি দু’জন খয়েরতলার। মামন মোল্লার বাড়িতেই বোমা বাঁধার কাজ হচ্ছিল বলে খবর। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতরা সকলেই ফেলসিডিল পাচারের সঙ্গে যুক্ত।
জানা যাচ্ছে, কিছুদিন আগেই ফেনসিডিল পাচার নিয়ে অন্য এক গোষ্ঠীর সঙ্গে মামন মোল্লাদের ঝামেলা লেগেছিল। মারও খেয়েছিল তারা। সেই মারের বদলা নিতেই মামন মোল্লার বাড়িতে এই বোমা বাঁধা হচ্ছিল বলে অনুমান। তবে অসাবধানতার জেরে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। বিস্ফোরণের তীব্রতার জেরে উড়ে যায় পাকাবাড়ির ছাদ। দুর্ঘটনার জেরে কারোর হাত উড়ে গিয়েছে, তো কারোর মুখ-হাত। ছিন্নভিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে দেহ।
এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “তখন লেপের মধ্যে শুয়ে মোবাইল দেখছিলাম। হঠাৎ করে বিকট শব্দে টিনের চাল ঝনঝনিয়ে ওঠে। বাইরে বেরিয়ে বুঝার টেষ্টা করি কোনদিকে শব্দ হল। আমার মতো পাড়ার আরও লোক বেরিয়ে পড়েন। আর তার কিছুক্ষণ পরেই জানতে পারি খয়েরতলায় মামনের বাড়ি উড়ে গিয়েছে। পরে আরও জানতে পারি দু-তিনজন বোমা ফেটে মারা গিয়েছে”।
স্থানীয়রাই মামন মোল্লা ও সাজিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাদের। গুরুতর আহত অবস্থায় পড়েছিল মুস্তাকিন শেখও। পুলিশ তাকে ডোমকল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যু হয় তার।
জানা গিয়েছে, এই মৃত তিনজনেরই নাম পুলিশের খাতায় আগে থেকেই রয়েছে। এরা এলাকায় কুখ্যাত ফেনসিডিল পাচারকারী বলেই পরিচিত ছিল। মৃতদেহ মর্গে রাখা রয়েছে। ঘটনাস্থলে আরও বোমা থাকতে পারে, সেই আশঙ্কায় ওই বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বম্ব স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।





