এই বাংলার বুকে রয়েছে ভারতবর্ষের শেষ রেলস্টেশন। যেখানে এখন আর কোন ট্রেন থামে না। ব্রিটিশরা যেমন ভাবে রেখে গিয়েছিল আজও তেমনটা রয়ে গেছে ভারতের শেষ রেলস্টেশনটি। রেলস্টেশনটি সিঙ্গাবাদ (Singabad Railway Station)। একসময় এই রেলওয়ে স্টেশনে পা পড়েছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধীর মতো লোকেদের। এই স্টেশন থেকে কিছুটা দূরত্বে হাঁটলেই আপনি পৌঁছে যাবেন বাংলাদেশ। ভারত থেকে বাংলাদেশ যাত্রার সর্বশেষ স্টেশন এবং বাংলাদেশ থেকে ভারত আসার সর্বপ্রথম স্টেশন এটি।
কিন্তু জানেন কেন এই স্টেশনে (Singabad Railway Station) ট্রেন দাঁড়ায় না?
এই স্টেশনের (Singabad Railway Station) টিকিটঘরটা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সিঙ্গাবাদ রেলওয়ে স্টেশন ভারতবর্ষের বুকে অবস্থিত ৭৩৪৯ টি রেলওয়ে স্টেশনের তুলনায় বেশ খানিকটা আলাদা।এই স্টেশনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানান ঐতিহাসিক কাহিনী। পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার হবিবপুর ব্লকের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতায় পড়ে এই স্টেশনটি। ব্রিটিশরা যখন রেলপথে কলকাতা থেকে ঢাকা জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তখন তৈরি হয় এই সিঙ্গাবাদ স্টেশনটি। একসময় দার্জিলিং মেলও উত্তরবঙ্গের দিকে ছুটে যেত এই স্টেশন দিয়ে। একসময় মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এই স্টেশন দিয়েই ঢাকায় যাতায়াত করতেন।
হঠাৎ একদিন এই স্টেশন থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেশভাগের সময় ব্রিটিশরা ভারত ছেড়ে যাওয়ার আগে সবচেয়ে জঘন্য কাজটি করে যান। রেডক্লিফ আইনের জন্য ভাগ হয়ে গেল দুই বাংলা। দেশ ভাগের সময় পশ্চিমবাংলা ভারতবর্ষের অংশ হয়ে উঠলেও পূর্ববঙ্গ এখনকার বাংলাদেশ সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সেসময়ও ভালো ছিল না। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ঢাকার সঙ্গে রেলপথের সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই যে রেল যাওয়া বন্ধ হল, তা বজায় থাকল ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত। ততদিনে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের জায়গা স্থাপন করেছে। ১৯৭৮-এ ফের সিঙ্গাবাদ স্টেশনে (Singabad Railway Station) ট্রেন দাঁড়ালো। কিন্তু যাত্রী সংখ্যা কমতে থাকায় ভারতীয় রেল সিদ্ধান্ত নিল তারা এই রুটে ট্রেন চালাবে না। সেদিন থেকেই বন্ধ হয়ে গেল সিঙ্গাবাদ স্টেশনের (Singabad Railway Station) টিকিট ঘর।
এখনো টিকিট ধরে হলুদ পিচবোর্ডের এডমন্ডসন টিকিট রয়েছে। কিছু বছর পর যখন ভারত বাংলাদেশের মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষর হল, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল এই স্টেশন ধরে পণ্যবাহী রেল যাতায়াত করবে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে। এখন বাংলাদেশ থেকে নেপালে খাদ্য রপ্তানি করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই সিঙ্গাবাদ স্টেশনটি (Singabad Railway Station)।
সিঙ্গাবাদ স্টেশনের (Singabad Railway Station) কিছুটা দূরে এই অবস্থিত বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। সিঙ্গাবাদ স্টেশনে (Singabad Railway Station) পৌঁছালে আপনি দেখতে পাবেন সেখানে লেখা রয়েছে দেশের শেষতম রেলওয়ে স্টেশন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে এই স্টেশন। তবে এই ষ্টেশন থেকে যাতে ফের ট্রেন চলাচল করে সেটাই চাইছে এলাকাবাসী। ইতিমধ্যেই এই স্টেশন থেকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি উঠেছে মালদা জেলার বাসিন্দাদের তরফে। ইতিহাস বিজড়িত সিঙ্গাবাদ স্টেশনটি (Singabad Railway Station) কবে হেরিটেজ তকমা পায় এখন সেটাই দেখার।





