ভোট পরবর্তী হিংসারা ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছে সিবিআই। কিন্তু রাজ্যকে যে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের কথা বলা হয়েছিল সেই সিট এখনও কাজ শুরু করেনি। সিবিআই নিজের কাজ শুরু করলেও, সিট কেন তা করেনি, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন তদন্তকারীরা।
আজ, বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী এবার এই সিটকেও ভাগ করা হল চারটি জোনে। প্রত্যেক জোনের জন্য থাকছেন দু’জন করে আইপিএস। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই তদন্ত করবেন তারা এমনটাই বলা হয়েছে।
তদন্তের কারণে রাজ্যকে চারটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। রয়েছে নর্থ জোন, সাউথ জোন, ওয়েস্ট জোন। এ ছাড়া সিটের সদর দফতরে থাকবেন দু’জন। কলকাতা পুলিশের দু’জন আধিকারিককেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হেড কোয়ার্টারের দায়িত্বে সামলাবেন রেলের ডিসি শুভঙ্কর ভট্টাচার্য, ডিআইজি সোমা দাস মিত্র।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সাউথ জোনের তদন্ত ভার পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের এডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত ও বারাসত রেঞ্জের ডিআইজি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। নর্থ জোনের দায়িত্বে থাকছেন উত্তরবঙ্গের আইজিপি ডিপি সিং ও মালদা রেঞ্জের ডিআইজি প্রবীন কুমার ত্রিপাঠি। ওয়েস্ট জোনে থাকবেন পশ্চিমাঞ্চলের এডিজি সঞ্জয় সিং, বর্ধমান রেঞ্জের আইজিপি বি এল মীনা। এদিকে কলকাতা পুলিশের ক্ষেত্রে তদন্তে দায়িত্ব বর্তেছে আইপিএস নীলাঞ্জন বিশ্বাস আইপিএস তন্ময় রায় চৌধুরীর উপর।
ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় সিটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন গতগুলে গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আইনজীবী রবিশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তাঁর সমস্ত বক্তব্য শোনেন ও সিটের ভূমিকা নিয়ে আদালত যে অবগত তাও জানান। নতুন করে মামলার কোনও অনুমতি দেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।
গত ১৯শে আগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট রায় দেয় যে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলার তদন্ত করবে সিবিআই। খুন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্ত করবে সিবিআই ও অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের জন্য গঠন করা হবে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট।
আরও পড়ুন- অসুস্থ মুকুল রায়, ভর্তি এসএসকেএমে, শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
চার ভাগে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে সিবিআই। একদল রয়েছে দুর্গাপুরে। সেখান থেকে বীরভূম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ পশ্চিমের জেলাগুলিতে তদন্ত চালাবে তারা। আর এক দল রয়েছে উত্তরবঙ্গের জন্য, ক্যাম্প হয়েছে কোচবিহারে। আর বাকী দুই কাজ করছে কলকাতাকে কেন্দ্র করে। কলকাতা ও শহর-সংলগ্ন জেলায় তদন্তের জন্য রয়েছে এই দুই দল।





