কথায় বলে, ‘জন-জামাই-ভাগনা, কেউ নয় আপনা’। সেটাই যেন আরও ভালোভাবে প্রমাণ করে দিল এক জামাই। শ্বশুরবাড়ি থেকেই কোটি কোটি টাকার গয়না, টাকাপয়সা হাতিয়ে নিল সে। জামাইয়ের কীর্তি দেখে মুষড়ে পড়েছেন শ্বশুর-শাশুড়ি।
জামাইকে বড্ড স্নেহ করতেন শাশুড়ি। আর জামাইও ভেবে ফেলেছিল, শাশুড়ির সম্পত্তি মানেই তো তাঁরই! সেই কারণেই আর কাল বিলম্ব না করেই শাশুড়ির সোনাগয়না সব হাতিয়ে নেয় সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে আটকে পড়ে সেই জামাই। আপাতত তাঁর ঠাঁই শ্রীঘরেই।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই জামাইয়ের নাম রাঘব শরাফ। তিনি কলকাতার এক নামী মিষ্টি প্রস্তুতকারক চেন সংস্থার মালিকের ছেলে। কলকাতায় নানান জায়গায় এই সংস্থার মিষ্টির দোকান রয়েছে। সেই পরিবারের ছেলের সঙ্গেই বিয়ে ঠিক হয় হেস্টিংসের এক ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ের।
শ্বশুরবাড়ি হওয়ার কারণে হেস্টিংসের ওই বাড়িতে প্রায়শই আসাযাওয়া লেগেই থাকত রাঘব শরাফের। ধনী পরিবারের ওই ছেলের আবার সঙ্গদোষ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আর এর উপর বিলাসবহুল, উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন তো রয়েছেই। সেই কারণে ঋণ হয়ে রাঘবের। কিন্তু বন্ধুদের সামনে ঠাটবাট তো বজায় রাখতেই হবে।
সেই কারণে শ্বশুরবাড়ির সিন্দুকের উপরেই নজর যায় রাঘবের। বেশ প্ল্যান করে সব ঠিক করে। শ্বশুর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হাসপাতালে। সেই অজুহাত দিয়ে শাশুড়ি ও শ্যালককে নিজের বাড়ি নিয়ে যায় জামাই। এদিকে শ্বশুরবাড়ি ফাঁকা হতেই নিজের কাজ গোছানো শুরু করে দিতে থাকে রাঘব। নিজের কর্মচারীকে নিয়ে একাধিকবার যাওয়াআসা করে শ্বশুরবাড়িতে। আর সেখানে সিন্দুকে থাকা হিরে-বহুমূল্য রত্নখচিত দেড় কোটি টাকার গয়না ও সাড়ে চার লাখ টাকা লুটে নেয় সে।
এদিকে, সম্প্রতি স্বামীর চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন পড়তে হেস্টিংসে নিজের বাড়িতে টাকা নিতে যান শাশুড়ি। সেখানে গিয়ে সিন্দুক খুলতেই চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায় তাঁর। দেখেন পুরো সিন্দুক ফাঁকা। পুলিশে খবর দিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
বাড়ির ও এলাকার কিছু ফুটেজে দেখা যায় ওই বাড়িতে জামাই ও তাঁর কর্মচারী বেশ কিছুবার যাওয়াআসা করেছে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ জেরা করে কর্মচারীকে। আর জেরার মুখে পড়ে সে মালিকের নাম বলে দেয়। পুলিশ ওই দু’জনকেই গ্রেফতার করে। কিছু গয়না ও টাকা উদ্ধার করা গিয়েছে। আর বাকি টাকা ও গয়নার খোঁজ চলছে বলে খবর পুলিশ সূত্রে।





