লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহায়! সরকারি প্রকল্পের টাকাতেই নেট রিচার্জ করে পড়াশোনা, ডাক্তারি পরীক্ষার প্রবেশিকায় সুযোগ পেল চা দোকানির ছেলে

Student studied with Lakshmir Bhandar Money and got chance in JEE: রাজ্যের মহিলাদের স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্য নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা পান আর তফশিলি জাতির মহিলারা মাসে পান ১২০০ টাকা। তবে সেই টাকা যে কাউকে ডাক্তারি পড়ারও সুযোগ করে দেবে, এমনটা হয়ত ভাবতে পারেনি সরকারও (Student studied with Lakshmir Bhandar Money and got chance in JEE)

বাবা ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে চায়ের দোকান চালান তিনি। আর মা মাধ্যমিক পাশ। সেই চায়ের দোকানির ছেলেটাই আজ ডাক্তারি পরীক্ষার প্রবেশিকায় সুযোগ পেয়েছে। হবু ডাক্তার সে। এখন তাঁর চোখে অনেক স্বপ্ন। দু’চোখে এখন তাঁর মানুষের সেবা করার আশা। নলহাটির কয়থার বাসিন্দা মাহফুজ আলম ওরফে রাহুলের সেই স্বপ্ন পূর্ণ হবে তো (Student studied with Lakshmir Bhandar Money and got chance in JEE)?

ছোটো থেকেই পড়াশোনা ও খেলাই ছিল রাহুলের ধ্যানজ্ঞান। কয়থা হাইস্কুলের ছাত্র সে। একাদশ শ্রেণীতে পড়ার সময় গরুর দুধ বিক্রি করে একটি মোবাইল কিনতে পেরেছিল সে। কোনও প্রাইভেট টিউটর ছিল না। পড়াশোনার একমাত্র মাধ্যম ইন্টারনেট। কিন্তু ইন্টারনেট রিচার্জ করার জন্য তো টাকা লাগবে। সেটা আসবে কী করে?

সেই সময়ই সহায় হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Student studied with Lakshmir Bhandar Money and got chance in JEE)। করোনার কারণে মাধ্যমিক দিতে পারেনি রাহুল। তবে পড়াশোনার ভিত্তিতে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পেয়েছিল ৯২ শতাংশ। উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান নিয়েছিল সে। কিন্তু কোনও গৃহশিক্ষক ছিল না। ফলে ইন্টারনেট থেকে দেখেই পড়াশোনা চলত তাঁর। মায়ে পাওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাতেই প্রতি মাসে নেট রিচার্জ করে চলত রাহুলের অনলাইন পড়াশোনা (Student studied with Lakshmir Bhandar Money and got chance in JEE)।  

আর সেই পড়াশোনা করেই ডাক্তারি পরীক্ষার প্রবেশিকায় সুযোগ পেল রাহুল। প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েই ৭২০-এর মধ্যে ৬৭৩ পেয়েছে রাহুল। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তাঁর র‍্যাঙ্ক ১২ হাজারের কাছাকাছি। নলহাটি ব্লকের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয় তাঁকে। সেই সংবর্ধনা নিয়েই বাবার চায়ের দোকানে কাজে লেগে পড়ে রাহুল।

রাহুলের বাবা জানান, “আমার বাবা আমাকে এই দোকান দিয়ে গিয়েছে। আমি আর ছেলে মিলে দুজনে সামান্য এই চায়ের দোকান চালাই। তিন বছর আগে আবাস যোজনার একটা পাকা ঘর পেয়েছি। বাড়িতে একটা দশ কেজি দুধ দেওয়া গরু আছে। সেই দুধ বিক্রি করে ছেলের বই কিনেছি”। রাহুলের মায়ের কথায়, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের যে টাকা পেতাম, সেটা দিয়েই ছেলের মোবাইলে নেট রিচার্জ করে দিতাম। সেটা নিয়েই সারাদিন পড়াশোনা করত” (Student studied with Lakshmir Bhandar Money and got chance in JEE)

রাহুল জানাচ্ছে, “প্রথমে ইচ্ছা ছিল নেভিতে যাওয়া। পরীক্ষায় পাশ করেছিলাম। কিন্তু শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় পাশ করতে পারিনি। পরে ইচ্ছা জাগল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ব। পড়ার এত খরচ কোথায় পাব? তখনই নিজেই ডাক্তার হওয়ার কথা ভাবি। প্রস্তুতি বলতে এনসিআরটির বই কিনেছিলাম। সেটা পড়তাম। দিনের পড়া সে দিনেই শেষ করতাম। মোবাইলে বিভিন্ন কোচিং ক্লাস শুনতাম। শেষে একটা সংস্থায় যোগ হয়ে ক্যুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বাড়িতে বসে পরীক্ষা দিতাম। বাড়িতে কম্পিউটার নেই। টিভি ছিল। বাবার চায়ের দোকানে সাহায্য করতে গিয়ে অনেক কিছু ছাড়তে হয়েছে” (Student studied with Lakshmir Bhandar Money and got chance in JEE)। ডাক্তারি পরীক্ষার খরচ জোগাতে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে লোণ নেওয়ার কথা ভাবছে রাহুল।  

RELATED Articles