আজ রাজ্যে হয়ে গেল পঞ্চম দফার ভোট। এদিন রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে উঠে আসে নানান অভিযোগ। দফায় দফায় সংঘর্ষের ফলে উত্তপ্ত হয় ওঠে নদিয়ার গয়েশপুরের পরিস্থিতি। সেখানে বকুলতলায় বোমাবাজির জেরে অচৈতন্য হয়ে পড়ে এক বিজেপি কর্মী। এছাড়াও, সেখানকার বিজেপির এক বুথ সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এবার এই ঘটনা নিয়ে সরব হলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন বীরভূমের ইলামবাজারে বিজেপির জনসভায় যোগ দেন শুভেন্দু। সভায় যোগ দেওয়ার আগেই তাঁর বক্তব্য, “এটা তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। পুলিসের একটা অংশ কয়লা, গরু, বালি থেকে করে খেয়েছে। তারা, আর কিছু লুম্পেন, পঞ্চায়েতের কিছু লোক যারা তোলা তোলে তারা ছাড়া আর কেউ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নেই। তারা যখন দেখছে দলে দলে মানুষ ভোট দিতে বেরিয়ে যাচ্ছে তখন আতঙ্কিত হয়ে মারপিট করছে। যদি কিছু ভোট কমানো যায়। এতে কোনও লাভ হবে না। পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন নিশ্চিত। ১৮০টা সিটে ভোট হয়ে গেল। আমার বিশ্বাস আর কয়েকটা ভোট পেলেই ম্যাজিক ফিগার ক্রস করে যাবে বিজেপি”।
আরও পড়ুন- ভাঙচুর-বোমাবাজি, একে অপরকে দোষারোপ তৃণমূল-বিজেপির, নীলবাড়ির লড়াইয়ে ফের চাঞ্চল্য সাঁইথিয়া গ্রামে
এদিন ইলামবাজারের সভায় যোগ দিয়ে শুভেন্দু ফের একবার ক্ষোভ উগড়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। তাঁর দাবী, “বীরভূমে কয়লা পাচার হচ্ছে, গরু পাচার হচ্ছে, পাথর পাচার হচ্ছে। এবার ভাইপো মানব দেহের দুটো কডনির মধ্যে একটা পাচার করে দেবে। দিদিমনি যতদিন ছিলেন, আমিও ছিলাম। যেদিন উনি পিসিমনি হয়েছেন, আমিও দল ছেড়েছি”।
এদিন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নাম না নিয়েই শুভেন্দু বলেন, এখানে তৃণমূলের সুপার ম্যান আছেন। তিন গণ্ডা গণ্ডা চাল কলের মালিক। এখানে তৃণমূলের গরু পাচারকারী এনামূল। তার সঙ্গে আবার সুপার ম্যানের দারুন সম্পর্ক। সুপার ম্যানকে খুব শিগগিরি ইডি, সিবিআই ছোটাবে।
আরও পড়ুন- তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, ইট-পাথর বৃষ্টি, ভোট পঞ্চমীতে রণক্ষেত্র বর্ধমানের নীলপুর, আটক দু’পক্ষের কয়েকজন
নন্দীগ্রাম নিয়েও এদিনের সভায় সরন হন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি হারিয়েই দিয়েছেন। এছাড়াও, নন্দীগ্রামে ভোটের দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুপুর ১টার সময় বুথ পরিদর্শন করতে যাওয়া নিয়ে ফের একবার তাঁকে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা। এও বলেন, তৃণমূলের মদতেই নদী কেটে বালি তুলে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবী, পূর্ব বর্ধমান, হুগলী, ও বীরভূমের লিজ যিনি পান তাঁর নাম পবন অরোরা। আর এই পবন অরোরা হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্যালিকার শ্বশুর, এমনটাই দাবী শুভেন্দুর।





