ফের তৃণমূলের এক হেভিওয়েট নেতা বিজেপির পথে। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতেই যাচ্ছেন, হাওয়া এমনই বলছে। তৃণমূলের সঙ্গে শুভেন্দুর তলানিতে ঠেকে যাওয়া সম্পর্ক এবার প্রায় বিচ্ছেদের মুখে।
গতকালই কোনও এক অজ্ঞাত কারণবশত বহু আলোচিত সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা খোদ শুভেন্দুর গড়ে।
দাদা-দিদির পোস্টারের লড়াইয়ে উত্তপ্ত তৃণমূলের উত্থানের মাটি। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর গড়ে এসে কি বার্তা দেন তা দেখে নিতেই গতকালের সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
সূত্রের খবর, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শুভেন্দু অধিকারী পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। জানা গিয়েছে, শনিবার সেই বিষয় নিজের কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠকও সেরেছেন তিনি।
তবে কেনও এই মাসের মাঝামাঝি সময়?
জানা যাচ্ছে, ততদিনে বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে চূড়ান্ত কথাবার্তা হয়ে যাবে। তাই এই মাসের মাঝামাঝি সময়কে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই পুরুলিয়ায় ‘দাদার অনুগামী’রা লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে পৃথক কার্যালয় খুলেছেন! সেখানে হাজির জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, পুরসভার কাউন্সিলর–সহ অনেকে। পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু–অনুগামী ব্লক সভাপতিদের দলীয় পদ থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই রাতেই হরিপুরে এক সভাঘরে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম–১ ব্লক তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে সদ্য অপসারিত মেঘনাদ পাল, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ শেখ খুশনবি–সহ কয়েকজন সাংগঠনিক পদাধিকারী। এইসব আস্থাভাজনদের ভবিষ্যতে পাশে চেয়েছেন শুভেন্দু। সেখানেই উপস্থিত স্থানীয় নেতারা ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে শুভেন্দুর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার বার্তা পেয়েছেন। মেঘনাদের বক্তব্য, ‘শুভেন্দুবাবু বিধায়ক হিসেবে এলাকার মানুষের খোঁজ-খবর নিতে এসেছিলেন।’
তবে শুভেন্দুকে কটাক্ষ করতে বাকি রাখছে না তৃণমূলের কোনও নেতাই।
যেমন, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সকালে বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় দলীয় সভায় তিনি বলেন, ‘তৃণমূলে সকলেই নেতা হয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছায়ার নীচে। সেই গাছ থেকে সরে গিয়ে দেখুক না। নেত্রী একজনই। আর কোনও দাদা–দিদি নেই!’
বিধানসভা ভোট পূর্ববর্তী বাংলার রাজনীতি তাই এবার জমে জমজমাট।





