আগামী বছরের মধ্যেই বাংলা চোরমুক্ত হবে। নন্দীগ্রামে শহিদ দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমনটাই হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবী, ২০২৪ সালে ফের মোদী সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলেই একে একে বাংলার সব চোররা ধরা পড়বে। তাঁর এহেন মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ আবার শুভেন্দুরই গ্রেফতারির হুঁশিয়ারি দেন।
নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক জমি নিয়ে চলছিল সংগ্রাম। সেই জমি ফিরে পেতে তৎকালীন রাজ্যের শাসক দল সিপিএম ২০০৭ সালের ১০ নভেম্বর সূর্যোদয় অভিযানের ডাক দিয়েছিল। সেদিনের সেই অভিযানে রক্তাক্ত হয় নন্দীগ্রামের মাটি। প্রাণ হারিয়েছিলেন জমি আন্দোলনের একাধিক নেতামন্ত্রী।
এরপর থেকেই প্রতি বছরের এই ১০ নভেম্বর দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করেন নন্দীগ্রামবাসীরা। শুভেন্দু যখন থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, সেই সময় থেকে এই শহিদ দিবস এক অন্য মাত্রা নিয়েছে। এই শহিদ দিবস পালন নিয়ে গত দু’বছর ধরেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এক ঠাণ্ডা লড়াই চলে। এবছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
শহিদ মঞ্চ থেকে কী বললেন শুভেন্দু?
এদিন শহিদ দিবসে করপল্লির শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তৃণমূল ও বিজেপিকে আলাদা আলাদা সময় বেঁধে দেয় প্রশাসন। এদিন সকাল ৯টা নাগাদ সেখানে প্রথমে মাল্যদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। শহিদ মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “এবার আর আদালতে যেতে হবে না। ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না। এবার আর সিআরপিএফ নামাতে হয়নি। বুঝে গিয়েছে তাই মমতার অনুগামীরা কিছু করতে পারেনি। এবছর আমরাই প্রথম শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছি”।
এদিনের এই শহিদ মঞ্চ থেকে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। বলেন, “নওশাদের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই হলেও আমি বলব ওঁর শিরদাঁড়া আছে। তাই মিথ্যা মমলায় ৩৯ দিন জেল খেটেছ। আত্মসমর্পণ করেনি। করলে মকুল রায়ের মতো অনেক আগেই করত”।
কী বললেন কুণাল?
শুভেন্দুর পর ওই একই মঞ্চে শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানান কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূল নেতারা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ দোলা সেন-সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই মঞ্চ থেকেই শুভেন্দুকে পাল্টা আক্রমণ শানান কুণাল। বলেন, “ সাধারণ মানুষও বুঝছেন রাজনৈতিক চক্রান্ত করে কী করে তৃণমূলের একের পর এক নেতাকে জেলে ঢোকানো হচ্ছে। মানুষ ভোটের বাক্সে জবাব দেবে। ২৪ সালে বুঝবে কত ধানে কত চাল। কেন্দ্র সরকার বদল হলেই এই ইডি-সিবিআইয়ের হাতেই গ্রেফতার হবেন শুভেন্দু”।





