‘হম দো হমারা চার’, চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে এমনটাই চান মমতার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা, ‘জনবিন্যাস বদলাতে চাইছেন’, দাবী শুভেন্দুর

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী জনসংখ্যা বিন্যাসের জন্য যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। যদিও নিজের মন্তব্য নিয়ে সাফাই দেন মন্ত্রী। তবে তাঁর সেই দীর্ঘ পোস্টের কারণে এবার পাল্টা দাবী করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবী, জনসংখ্যার বিন্যাস বদল করার জন্য এমন মন্তব্য করেছেন মমতার মন্ত্রী।   

বিধানসভা অধিবেশন কক্ষে কিছুদিন আগে মন্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেছিলেন, “আপনারা বলবেন হাম দো হামারো দো, আমরা বলব হাম দো, হামরা চার। এটাই গণতন্ত্র”। সেই সময় পয়েন্ট অফ অর্ডার করতে দেখা যায় বিজেপির মুখ সচেতক তথা বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে। তিনি স্পিকারের কাছে জানতে চান, সিদ্দিকুল্লার মন্তব্য কার্যবিবরণীতে থাকবে কী না।

সেই সময় সিদ্দিকুল্লা বলেন, “আমার বক্তব্য রেকর্ডে থাকুক না। আমাকে যদি স্পিকার বলেন এর উত্তর দিতে তখন আমি এর বিশদ বিবরণ দিচে পারব। গ্রাম বাংলায় হিন্দু, মুসলিম সবাই চায় তাদের সন্তান থাকুক। এই নিয়ে তারা গর্বিত। চিনের সঙ্গে লড়াই করতে গেলে তাদের সমসংখ্যক জনসংখ্যা থাকতে হবে তো। তাই হম দো, হমারা চার দরকার। হম দো, হমারা দো – দিয়ে হবে না’।

মন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারী এক দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্ত্রী সম্প্রতি দাবী করেছিলেন যে তিনি ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ হতে দেবেন না। এখন তিনি ‘হম দো, হমারা চার’ নীতির প্রচার করছে। ভারত এমন এক দেশ যারা জনসংখ্যা বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে আমরা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে চেষ্টা করে চলেছি। আর এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে মমতার এক সিনিয়র মন্ত্রী ‘মানুষদের’ আরও বেশি করে সন্তান নিতে বলছেন। তাও আবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে। এটা পশ্চিমবঙ্গের জন্যে বিপদ ঘণ্টি। ভারতের সবচেয়ে জনসংখ্যা ঘনত্ব এই রাজ্যে। এখানে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাস। সংখ্যালঘুদের সংখ্যা এখানে ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে কি সিদ্দিকুল্লা কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বার্তা দিলেন? এটা কি জনসংখ্যা বিন্যাসের ইঙ্গিত”?

আরও পড়ুনঃ জ্বলছে ওপার বাংলা! এরই মধ্যে বাংলাদেশের এক বিএনপি নেতাকে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ, ফাঁস বড় রহস্য 

তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে আমার বিনম্র আবেদন, সময় এসেছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল পাশ করিয়ে তা কার্যকর করার। এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। জনসংখ্যা বিন্যাসে পরিবর্তনের ওপর ব্রেক কষতে হবে। এটাই বিকশিত ভারতের চ্যালেঞ্জ। নয়ত এই ধরনের মানুষ সবসময়ই মাজের একটা অংশকে উদ্বুদ্ধ করে চলবে আরও বেশি সংখ্যায় সন্তান নেওয়ার জন্যে। কারণ এটাই তাদের রাজনীতির জন্যে ভালো”।

RELATED Articles