বেআইনিভাবে নিয়োগ! আদালতের নির্দেশে শিক্ষকতার চাকরি গেল নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেত্রীর, ‘পার্থকে ১০-১২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন উনি’, কটাক্ষ শুভেন্দুর

এসএসসি-তে নিয়োগ দুর্নীতির পাশাপাশি এখন প্রাইমারি টেটে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে গোটা রাজ্য উত্তাল। ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষায় নিয়োগ হওয়া ২৬৯ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বেআইনিভাবে হয়েছে এই নিয়োগ। জেলায় জেলায় এই তালিকা বের হচ্ছে। এরই মধ্যে দেখা গেল যে শিক্ষিকার চাকরি খোয়ালেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সঞ্চিতা প্রধান।

পূর্ব মেদিনীপুর থেকে চাকরি গিয়েছে ৩০ জনের। এর মধ্যে রয়েছে সঞ্চিতার নাম। তবে তৃণমূল নেত্রীর দাবী, তিনি সমস্ত প্রক্রিয়া মেনেই চাকরি পেয়েছিলেন। নিয়ম মেনেই তাঁর নিয়োগ হয়েছিল। সঞ্চিতার কথায়, এই বিষয়টি বিচারাধীন। তাই তিনি এ নিয়ে কোনও কথা বলতে চান না।

সঞ্চিতা এও বলেন, “আমি সমস্ত নিয়ম মেনে চাকরি পেয়েছি। তবে চাকরি খোয়া যাওয়ার বিষয়ে কিছুই জানি না। এখনও এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ আমার কাছে আসেনি।

নন্দীগ্রাম থানার উত্তর বয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন সঞ্চিতা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি হাবিবুর রহমানের দাবী, “হাই কোর্ট ও স্টেট বোর্ডের নির্দেশে এই জেলার ৩০ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের দ্রুত বরখাস্ত করার পাশাপাশি বেতন বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে”।

এরই মধ্যে গতকাল, শুক্রবার নন্দীগ্রাম একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। সঞ্চিতার চাকরি বাতিল প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, “উনি (সঞ্চিতা) টেট পাশ করেননি। পরীক্ষাও দেননি। তার পরেও প্রাথমিক শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। এ জন্য উনি মহাদেবের (নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি মহাদেব বাগ) মাধ্যমে পার্থ (প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়)-কে টাকা দিয়েছেন। ১০-১২ লাখ টাকা তো দিয়েছেনই”।

শুভেন্দুর আরও বলেন, “এ রকম হাজার হাজার ঘটনা আছে। সবার চাকরি যাবে। হরি বোল”।

শুভেন্দুর এহেন মন্তব্যের প্রসঙ্গে সঞ্চিতা বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী হয়তো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এসব বলছেন। উনি কেন বলছেন উনিই বলতে পারবেন”।

RELATED Articles

Leave a Comment