নির্যাতন! কন্যা সন্তান হওয়ার শাস্তি, এক মাসের বাচ্চা-সহ স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

গ্রামে গঞ্জে প্রায়শই বধূ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকে। এমনকি কন্যা সন্তান হলে তার দায় পড়ে বাড়ির বউদের ওপর। এমন ঘটনাও ঘটেছে কন্যা সন্তানকে মেরে ফেলা হয়েছে বা ঘরছাড়া হয়েছে কন্যাকে নিয়ে। এমন অনেক কুসংস্কার আচ্ছন্ন মানুষেরা আছেন যারা মনে করেন কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়া অপরাধ। কন্যা সন্তানকে জন্ম দেওয়া নিয়ে বহু কুসংস্কার রয়েছে এ জগতে। খাস কলকাতায় এমনই ঘটনা ঘটল। 

কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে এবার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেন স্বামী। এমনই অমানবিক ঘটনার সাক্ষী গড়িয়া। গড়িয়া এলাকার এক যুবকের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। বিচার চেয়ে এক মাসের সন্তানকে নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই মহিলা। ‌ ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে শনিবার বারুইপুর আদালতে পেশ করেছে পুলিশ। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবক। 

পুলিশ সূত্রে খবর, মাত্র এক বছর আগে গড়িয়ার বাসিন্দা নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে হয় হাওড়ার উদয়নারায়নপুরের তনুশ্রী হালদারের। কর্মসূত্রে পরিচয় হয় তাদের দুজনের। পরে সেই সম্পর্কই বিবাহ পর্যন্ত গড়ায়। দুই পরিবারের সহমতেই তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই ওই মহিলার ওপর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অত্যাচার করতে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 এমনকি বিয়ের সময় শ্বশুর বাড়ির লোক ২ লক্ষ টাকা পণ আদায় করেছে তনুশ্রীর বাড়ি থেকে। সেই নিয়ে মাঝেমধ্যে তাদের মধ্যে অশান্তি হতো। অশান্তি এই চরমে পৌঁছালে পরিবার প্রতিবেশীরা মিলে অশান্তি থামাতেন। তবে কন্যা সন্তানের জন্মের পর থেকে অশান্তির তীব্রতা আরও বাড়তে থাকে। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের তরফে অত্যাচারের মাত্রা আর বাড়িয়ে দেওয়া হয়। 

স্বামীর নামে অভিযোগ করে তনুশ্রী জানান, অত্যাচার বেড়ে যাওয়ার মাত্র ২১ দিনের কন্যা সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে হয় তাকে। শেষে এক মাসের সন্তানকে নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নবকুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও নবকুমার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন এবং বলেছেন, “আমার থেকে সাত লক্ষ টাকা চেয়েছিল। সেটা দিতে পারিনি। তাই এসব মিথ্যা বলা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”

RELATED Articles