স্কুলে আসেন না শিক্ষিকা, তাঁর জায়গায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষিকার পুত্র ও পুত্রবধূ, ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকরা

রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির বেহাল দশা নিয়ে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কোথাও পড়ুয়া নেই, তো কোথাও আবার শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাব, তো কোথাও আবার স্কুলের ভগ্নপ্রায় অবস্থা। এরই মধ্যে এবার আরও এক স্কুল থেকে এল অন্য এক অভিযোগ। স্কুলে আসেন না শিক্ষিকা। সেই স্কুলে তাই ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছেন ওই শিক্ষিকার ছেলে ও পুত্রবধূ।

কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?

ঘটনাটি ঘটেছে জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের রাজাপুর-করাবেগ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ঝিকরা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই স্কুলের অবস্থা বেহাল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্কুলটি। অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, এই স্কুলে আগে প্রায় ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী ছিল। কিন্তু বর্তমানে কমে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ জনে।

জানা গিয়েছে, এই স্কুলে কেবল মাত্র একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষিকা। দু’জনেই অসুস্থ স্কুলের আসতে পারেন না। প্রায় ২ বছর ধরে তাই স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকার ভূমিকা পালন করেন স্কুলের বর্তমান শিক্ষিকা বাসন্তী বালা হালদারের পুত্র সনাতন হালদার ও পুত্রবধূ সরস্বতী নাইয়া।

বর্তমানে স্কুলে শিক্ষকতা করেন এরা দু’জনেই। স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস নেন তারা। অভিভাবকদের কথায়, এই বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। স্কুলে মিড ডে মিলের রান্নার কাজে নিযুক্ত কর্মচারীরাও ঠিক সময় বেতন পান না বলে অভিযোগ। এর জেরে স্কুলের মিড ডে মিলের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীরা বেশ সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।

এই ঘটনায় স্কুল পরিদর্শক কৃষ্ণেন্দু ঘোষ বলেন, “এই স্কুলের শিক্ষক ক্যান্সারে আক্রান্ত। অন্যদিকে, দিদিমণি শারীরিক অসুস্থতার জন্য দুবছরের জন্য ছুটি। স্কুলটিকে ভালভাবে চালানোর অস্থায়ীভাবে শিক্ষক আনা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকও দ্রুত নিয়োগ হবে”।

এদিকে স্কুল শিক্ষিকার ছেলে সনাতন হালদার যদিও বলেছেন, তিনি স্কুলে আসেন না। শুধু পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়ার জন্য এসেছেন তিনি। কিন্তু তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোলের অন্ত নেই।

RELATED Articles