ভোটের আগে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ মানেই রাজনৈতিক মহলে বাড়তি উত্তাপ। কে থাকলেন, কে বাদ পড়লেন—এই হিসেবেই তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। এবারের ছবিটা যেন আরও নাটকীয়। একুশের নির্বাচনে জয়ী অনেক পরিচিত মুখও যে তালিকার বাইরে চলে যেতে পারেন, সেই সম্ভাবনার আভাস মিলছিল আগেই। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সেই জল্পনাই বাস্তব রূপ নিল।
দলীয় অন্দরমহলে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল পারফরম্যান্স, ভাবমূর্তি আর বিতর্ক—এই তিনকে ঘিরে। তারই প্রতিফলন যেন দেখা গেল এবারের তালিকায়। সূত্রের খবর, মোট ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দেয়নি দল। যদিও প্রথমে স্পষ্টভাবে কারণ জানানো হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে—দুর্নীতির অভিযোগ, সংগঠনের সঙ্গে দূরত্ব এবং ব্যক্তিগত বিতর্ক—সব মিলিয়েই এই বড়সড় সিদ্ধান্ত।
সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। বেহালা পশ্চিমে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও এবার আর তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারির পর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলই। সেই জায়গাতেই এবার দল নতুন মুখ হিসেবে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে সামনে এনেছে। একইভাবে বড়ঞাঁর জীবনকৃষ্ণ সাহা ও পলাশিপাড়ার মাণিক ভট্টাচার্যও টিকিট হারিয়েছেন, যাঁদের নামও বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ West Bengal assembly election 2026 : একুশে নন্দীগ্রাম, ছাব্বিশে ভবানীপুরে মহাযু*দ্ধ! শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়বেন মমতা ব্যানার্জি! ব্যারাকপুরে রাজ, বেলেঘাটায় কুণাল, দমদমে ব্রাত্য বসু! ২৯১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা তৃণমূলের!
শুধু রাজনৈতিক কারণই নয়, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্ক যে প্রভাব ফেলতে পারে, তার উদাহরণ কাঞ্চন মল্লিক। উত্তরপাড়ার বিধায়ক হিসেবে তাঁর সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চা তাঁকে বারবার শিরোনামে এনেছিল। এমনকি এলাকায় ‘নিখোঁজ’ পোস্টার পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছিল। শেষমেশ সেই কেন্দ্রে নতুন প্রার্থী হিসেবে শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেছে নিয়েছে দল।
এবারের তালিকায় শুধু বাদ দেওয়া নয়, রদবদলের ছবিও স্পষ্ট। প্রায় ১৫ জন বিধায়কের কেন্দ্র বদল করা হয়েছে, যার মধ্যে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর নামও রয়েছে। তবে এখনও বড় অংশ—১৩৫ জন—নিজ নিজ কেন্দ্রে টিকিট পেয়েছেন। সব মিলিয়ে, প্রার্থী তালিকা জানিয়ে দিল একটাই বার্তা—দল এবার ইমেজ ও সংগঠনকে নতুনভাবে সাজাতে বড় ঝুঁকি নিতেও পিছপা নয়।





