পঞ্চমীর রাত। পুজোর শুরু বলা যেতে পারে। চারিদিক তখন আনন্দমুখর। রাস্তায় রাস্তায় ঠাকুর দেখতে ব্যস্ত লোকজন। মণ্ডপ মণ্ডপে ভিড়। এরই মাঝে অন্ধকার নেমে এল এক যুবকের জীবনে। তৃণমূল নেতার হাতে নৃশংসভাবে খুন হতে হল তাঁকে। এই ঘটনায় তুমুল উত্তাল পরিস্থিতি।
ঘটনাটি ঘটেছে আরামবাগের পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায়। মৃতের নাম দেবাশিস আশ। বয়স ৩২ বছর। জানা গিয়েছে, পঞ্চমীর রাতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজের কিছু অনুগামীদের নিয়ে দেবাশিস আশকে পিটিয়ে খুন করেন ওই এলাকার ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হেমন্ত পাল নামের এক তৃণমূল নেতা। এই ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবী উঠেছে।
জানা গিয়েছে, গতকাল, মঙ্গলবার রাতে দেবাশিস আশ নামের ওই যুবক তাঁর ভাগ্নে সায়ন চক্রবর্তীর খোঁজ করতে গিয়ে দেখেন তাঁর ভাগ্নের সঙ্গে বচসা চলছে তৃণমূল নেতা হেমন্ত পালের। সেই সময় সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে হামলা চালানো হয় দেবাশিসবাবুর উপর। লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয় ওই যুবককে। সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয়রা দেবাশিসবাবুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এই ঘটনায় তুমুল বিক্ষোভ ছড়িয়েছে ওই এলাকায়। তৃণমূল নেতা হেমন্ত পালের কঠোর শাস্তির দাবী তুলেছেন স্থানীয়রা। এলাকায় এই মুহূর্তে চরম উত্তেজনা।
প্রসঙ্গত, এই অভিযুক্ত হেমন্ত পাল দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত বলে খবর। এরপর তিনি তৃণমূলের চার নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হন। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ নানান অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রেফতার করা হয়েছে ওই তৃণমূল নেতাকে।

আরও পড়ুনঃ ‘গণইস্তফা সব নাটক, টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে, পুজোর ছুটিতে বাইরে যাচ্ছে…’,গণইস্তফা নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকদের খোঁচা কুণালের
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তথা পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের হার্মাদ হেমন্ত পাল এর আগেও আমাদের কার্যকর্তাদের ওপর অত্যাচার করেছেন। আমরা বারবার থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। এবার রাস্তায় এক যুবককে মারধর করে মেরেই ফেলল। এই সমস্ত সমাজবিরোধীদের সমাজে থাকার কোনও অধিকার নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় এরা উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ধৃত তৃণমূল নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ার প্রয়োজন”।





