কিছুদিন আগেই জয়নগরের দলুয়াখাঁকি গ্রামে তৃণমূল নেতার খু’নের পর এলাকার একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় তোলপাড় হয় গোটা রাজ্য। এখনও সেই ঘটনা নিয়ে শাসক-বিরোধী বিবাদ তুঙ্গে। এবার এমন আবহেই এক হুঁশিয়ারি দিয়ে দলকে অস্বস্তিতে ফেলে দিলেন তৃণমূল ব্লক সভাপতি। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “‘আমাদের কর্মী আক্রান্ত হলে এক ঘণ্টায় এলাকা জ্বালিয়ে দেব”। তাঁর এহেন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
কী বলেছেন তৃণমূল নেতা?
গতকাল, রবিবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের সাহেবগঞ্জে একটি সভার আয়োজন করেছিল তৃণমূল। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন ভাতারের ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাসুদেব যশ। সেখান থেকেই তিনি বলেন, “সহ্যের একটা সীমা আছে। অনেক সহ্য করেছি। আমি তিনবার এই সাহেবগঞ্জের বুকে মার খেয়েছি। কোনওরকমে প্রাণে বেঁচেছি। আমরা মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মেলামেশা করি ও করব। কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি এই সাহেবগঞ্জ অঞ্চলে ও ভাতার ব্লকের বেশ কয়েকটি জায়গা উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে। এটা মেনে নেব না। আমরা জানি কীভাবে অশান্তি ঠান্ডা করতে হয়”।
তৃণমূল নেতার সংযোজন, “আমাদের বিধায়ক বলেছেন আমরা রাস্তায় আছি। কোথাও অশান্তি, দাঙ্গা চাই না। ৩৪ বছর ধরে লড়াই করে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি। আমরা শান্তি চাই। কিন্তু কেউ অশান্তি করলে তার ওষুধ জানা আছে। সেই ওষুধ প্রয়োগ করব। একটা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী যদি আক্রান্ত হন, একঘণ্টার মধ্যে সেই জায়গা জ্বালিয়ে দেব”।
গত বৃহস্পতিবার সিপিএমের ‘ইনসাফ যাত্রা’ কর্মসূচি ছিল ভাতারে। তার পালটা গত শনিবার বিকেলে তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর নেতৃত্বে বিশাল মিছিল করে ঘাসফুল শিবির। এদিন সন্ধ্যায় ভাতার বাজারে পথসভায় মানগোবিন্দ বলেছিলেন, “সিপিএমের আমলে খুনের বিচার হয়নি। আমাকে গুলি করা হয়েছিল। সেই মামলা পুলিশকে দিয়ে চেপে দিয়েছিল। আর ওরা এখন ইনসাফ যাত্রা করছে। ইনসাফ তো আমরা চাইব। এবার আর বদল নয়, বদলা চাইব”। আর এরপরই আবার বেফাঁস মন্তব্য বাসুদেব যশের।
এ বিষয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন বলেন, “আসলে তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়েছে। তাই পাগলের প্রলাপ বকছে। প্রচুর মানুষ ইনসাফ যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন। তাই বিধায়ক থেকে তৃণমূল নেতা এসব বলছেন”।





