সন্দেশখালিতে আগুন জ্বলছে। সেখানকার দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা শেখ শাহাজাহান এখনও ফেরার। তাঁর দুই সাগরেদ উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেয় এলাকাবাসীরা। তাঁকে গতকাল, শনিবারই দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। এরপর রাত হতেই উত্তমকে গ্রেফতার করল পুলিশ। কিন্তু এখনও অধরা শেখ শাহজাহান ও শিবু হাজরা।
উত্তম সর্দার উত্তর ২৪ পরগণার জেল পরিষদের সদস্য ছিলেন। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পদেও ছিলেন তিনি। সন্দেশখালি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। গতকাল, শনিবার রেড রোডে ধর্না মঞ্চ থেকে মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে উত্তম হাজরাকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হল। এরপর রাতেই জানা গেল, গ্রেফতার করা হয়েছে ওই নেতাকে।
গত তিনদিন ধরে উত্তপ্ত সন্দেশখালি। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর দুই সাগরেদ শিবু ও উত্তমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন এলাকাবাসীরা। বাঁশ, লাঠি হাতে বিক্ষোভ দেখান তারা। ওই দুই সাগরেদদের বিরুদ্ধে মহিলাদের শ্লী’ল’তা’হা’নি, শা’রী’রি’ক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভের জেরে সন্দেশখালিতে জারি হয় ১৪৪ ধারা।
এই পরিস্থিতিতে গতকাল, শনিবার সন্দেশখালিতে ঢোকার চেষ্টা করেন বিজেপির প্রতিনিধিরা। কিন্তু তাদের আটকানো হয়। এরপর রাজভবনে বিক্ষোভ দেখান শুভেন্দু অধিকারীরা। রাজ্যপাল যাতে এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেন, এর দাবী তোলা হয়। শুভেন্দু এও বলেন, রাজ্যপাল যাতে নিজে গিয়ে সন্দেশখালির পরিস্থিতি দেখে আসেন। এরপরই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেশখালির রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস।
তিনি এও বলেন, “সন্দেশখালিতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। মহিলারা সেখানে নির্যাতিত, মহিলাদের উপর অত্যাচার চলছে। গুন্ডারাজ চলছে। বর্তমান সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। গুন্ডাদের এমন আচরণ বন্ধ হওয়া উচিত। এর জন্য সরকারকে ব্যবস্থা করতে হবে”।





