রাজ্য

‘বাঙালি হিসেবে লজ্জিত, লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে’, পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার ঘটনায় কমিশনকে দুষলেন খোদ তৃণমূল বিধায়ক

পঞ্চায়েত নির্বাচনে চরম অরাজকতা হয়েছে বাংলায়। খু’ন, হিংসা, বোমাবাজি, ভোট লুট, ছাপ্পা ভোট কিছুই বাদ যায়নি। পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার বলি হয়েছে ১৬ জন। এই ঘটনায় বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে। অন্যদিকে, শাসক দলের মতে, দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে। তবে এবার উল্টো সুর শোনা গেল তৃণমূল বিধায়কের মুখেই। পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার ঘটনায় কমিশনকেই দুষলেন ডেবরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।

কী বললেন হুমায়ুন কবীর?

তিনি বলেন, “বাঙালি হিসেবে লজ্জিত, মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে লজ্জায়”। বাংলার পঞ্চায়েত নির্বাচনে এত খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “পুলিশ এলাকায় থাকলে, অনেক সময় ঝামেলা খুব কম হয়। পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও গন্ডগোল কম হয়”।

কবীর আরও বলেন, “পুলিশের ভূমিকা কী, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তবে এটা বলব, শুধু পুলিশের দোষ না, দোষ রাজনৈতিক দল থেকে কমিশন, সবারই রয়েছে”।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাম আমলের কথা টেনে আনেন তৃণমূল বিধায়ক। বলেন, “বাম আমলে খুনোখুনি হয়েছে। আগেও প্রচুর পরিমাণে বোমা, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হত, এখনও হচ্ছে। আগে আমরা প্রচুর তল্লাশি অভিযান চালিয়েছি। ২০০৮ সালে দায়িত্বে থাকার সময় বর্ধমানে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছিলাম। প্রচুর অস্ত্র, বোমা উদ্ধার করেছিলাম”।

তাঁর সংযোজন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছিলেন যাতে সব বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেন। তিনি ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন’-এর কথা বলেছিলেন…কিন্তু আমাদের লোক গন্ডগোল করেছে কিছু, বিরোধীরা তো গন্ডগোল করেই”।

কেন্দ্রীয় বাহিনী কী তবে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ?

এই বিষয়ে হুমায়ুনের যুক্তি, “কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিশৃঙ্খলা, কমিশন ও বাহিনীর মধ্যে তালমিলের অভাব রয়েছে। কমিশন কতটা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছে, কতটা পারেনি সেটা তো কমিশনের বিষয়”।

তৃণমূল বিধায়কের কথায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্পর্শকাতর এলাকা চিনিয়ে দেওয়া, তাকে গাইড করা পুলিশের সাধারণ একটা কাজ। তবে সর্বত্র জেলা প্রশাসনের কী ভূমিকা ছিল, তাও দেখবার বিষয় রয়েছে। তিনি এও স্বীকার করে নেন যে রুটমার্চ, এলাকা ডমিনেশন , নাকাচেকিং ঠিকমতো হয়নি।

Back to top button
%d bloggers like this: