ভোট পরিবর্তী হিংসায় ইন্ধন জোগাচ্ছেন রাজ্যপাল, জগদীপ ধনখড়ের অপসারণের দাবী করে বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ

নবান্ন ও রাজভবনের সংঘাত যে সহজে মেটবার নয়, তা মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের দিনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে এর আগেও বারবার সরব হয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এবার বাংলার এই দুরাবস্থা সম্পর্কে অসমে গিয়েও মুখ খুললেন তিনি।

রাজ্যপালের এমন কার্যকলাপে স্বভাবতই খেপেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই কারণে ফের একবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের অপসারণের দাবী তোলা হল রাজ্যের শাসকদলের তরফে। তাদের দাবী, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় রাজ্যপাল ইন্ধন জোগাচ্ছেন। দিল্লির এজেন্টের মতো কাজ করছেন তিনি। তিনি রাজ্যপালের পদে থাকার যোগ্য নন। বলে রাখি, এর আগেও ২০২০ সালে রাজ্যপালের অপসারণের দাবী করে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পাঠায় তৃণমূল।

আরও পড়ুন- ভোট পরবর্তী হিংসায় একের পর এক হিন্দুরা আক্রান্ত, অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপের দাবী বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

আজ, শুক্রবার অসমে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যপাল বলেন, “২রা মে-‌র পর রাজ্যের পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছে। ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন মানুষ। কারণ একটাই, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অভাব। ভেবেছিলাম সরকারের বোধোদয় হবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। রাজ্যের প্রথম সেবক হিসেবে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে অশান্ত এলাকায় যাওয়ার। আমার প্রথম কাজ সংবিধানকে রক্ষা করা। তার পরে বাংলার মানুষকে হিংসা থেকে বাঁচানো”।

এই নিয়েই সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল। তাঁদের দাবী, রাজ্যপাল বেছে বেছে আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেই কথা বলছেন। তৃণমূল কর্মীরাও তো আক্রান্ত হয়েছেন, সেদিকে কোনও খেয়াল নেই তাঁর। এই বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় রাজ্যপালের অপসারণ চেয়েছেন। তাঁর দাবী, “‌দিল্লির শাহেনশাদের এজেন্ট ধনখড়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে হিংসায় ইন্ধন দিচ্ছেন। বিজেপি নেতার মতো কাজ করছেন। তিনি রাজ্যপালের পদে থাকার যোগ্যই নন। তাঁকে অপসারণ করা উচিত”।

আরও পড়ুন- “মানুষের মত বাঁচার অধিকার আছে করোনা ভাইরাসেরও”, বললেন মুখ্যমন্ত্রী!

এদিন তিনি আরও বলেন, “‌৯ মে-‌র পরে বাংলার হিংসা দমন করা গিয়েছে। রাজ্য সরকারের ভূমিকায় কলকাতা হাইকোর্টও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু রাজভবনে বসে থাকা দিল্লির এজেন্টটি শীতলকুচির মতো জায়গায় গিয়ে হিংসায় ইন্ধন জোগাচ্ছেন। ওখানে যে চারজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মারা গিয়েছেন, তাঁদের পারিবারের সঙ্গে উনি দেখা করেননি। বিজেপি গুন্ডাদের আক্রমণে দু’‌জন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী খুন হন। তাদের পরিবারের সঙ্গেও উনি দেখা করেননি। একজন কুখ্যাত সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর ওসিকে ধমকাচ্ছেন”।

RELATED Articles