তৃণমূল প্রধানের বাড়ি লক্ষ্য করে ঘটল বোমাবাজি (bombing) ঘটনা। এই ঘটনায় নিজের শ্বশুরের দিকেই আঙুল তুলেছেন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান (TMC Panchayat Head) শেফালি বিবি (Shefali Bibi)। ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরেই একটি গাছের তলা থেকে উদ্ধার হয় একটি বোমা ভর্তি ব্যাগ ও একটি সকেট বোমা। ঘটনার খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রানিনগর এলাকায়।
এই বোমাবাজির খবর পেয়ে তৃণমূল প্রধানের বাড়ি যান তৃণমূলের রানিনগর ২ ব্লকের সভাপতি সাহ আলম সরকার। পঞ্চায়েতের প্রধান শেফালি বিবি ও তাঁর স্বামী আনিসুর রহমান ওরফে বাচ্চুর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আনিসুর রহমান বাচ্চুর অভিযোগ, এই বোমাবাজির ঘটনায় হাত রয়েছে তাঁর বাবা জহিরুদ্দিন শেখের।
তিনি বলেন, “৩৩ বছর হল বাবা আমাদের দেখেন না। দ্বিতীয় বিয়ে করে পৃথক বাড়িতে থাকেন। আমি তৃণমূল করি, আর বাবা আগে তৃণমূল করলেও এখন কংগ্রেস-সিপিএমকে নিয়ে জোট করার চেষ্টা করছে”। তার আরও অভিযোগ, “সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। আমি আবারও যদি টিকিট পাই তাহলে হয়তো আমার সঙ্গেই লড়তে হবে বাবাকে। সেই আশঙ্কায় পথের কাঁটা হিসেবে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বোমা ফাটানো হয়েছে”।
অভিযুক্ত জহিরুদ্দিন শেখকে আটক করে পুলিশ। জহিরুদ্দিনের স্ত্রী রাবিয়া বিবি ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, “ওই ঘটনার আমরা কিছুই জানিনা। অন্যদের মতো আমরাও শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে যাই। জানার চেষ্টা করছিলাম কোথায় কী হয়েছে। তৃণমূলের লাঠিয়াল বাহিনী পুলিশের উপস্থিতিতেই আমাদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করেছে। আলমারি ভেঙে তাতে থাকা টাকা ও ছ’ভরি গয়না, জমির দলিল লুট করে নিয়েছে”।
অন্যদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের রানিনগর ২ ব্লকের সভাপতি শাহ আলম সরকার অবশ্য জানান, “ওই সব অভিযোগ ঠিক নয়। নিজেরাই ভাঙচুর করে গল্প বানাচ্ছে”।
তাঁর কথায়, “বেশ কিছুদিন ধরেই খবর পাচ্ছিলাম জহিরুদ্দিন শেখ এদিক-সেদিক গোপন বৈঠক করে বেড়াচ্ছেন। বিরোধী দল হিসেবে বৈঠক করতেই পারে। তাই বলে ছেলের বাড়িতে বোমাবাজির পরিকল্পনা ছিল তা বুঝতে পারিনি”। ব্লক সভাপতি আরও বলেন, “ছেলেই যখন বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে, তখন নিশ্চয় কোনও কারণ আছে। পুলিশকে বলেছি ঘটনার তদন্ত করে আসল কারণ জানতে”।
ওই ঘটনা প্রসঙ্গে আবার রানিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা কংগ্রেস নেত্রী ফিরোজা বেগম বলেন, “বোমাবাজি, বোমা বাঁধা এসব তৃণমূলের সংস্কৃতি। যতদূর জানি রানিনগরে বিরোধীরা কোণঠাসা। তারা তো বাড়িতেই থাকতে পারছে না। এই অবস্থায় তৃণমূল বিরোধীরা কেউ এই কাজ করবে বিশ্বাস করি না। তৃণমূলের নিজেদের মধ্যেই হয়তো কেউ শাহ আলম সরকারের কাছে পাত্তা পাচ্ছিল না। তাই পাত্তা বা সহানুভূতি পাওয়ার জন্য নিজেরাই বোমা ফাটিয়ে অন্যদের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে”।





