ফের ঘটে গেল এক বড়সড় রেল দুর্ঘটনা। এবার তা ঘটল খোদ বাংলাতেই। রবিবার সাতসকালেই একটি মালগাড়িকে পিছন দিক থেকে ধাক্কা মারে অন্য একটি মালগাড়ি। একটি মালগাড়ির উপর উঠে যায় অন্যটি। গুরুতর আহত দুই মালগাড়ির চালকই। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি মালগাড়িই। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে ওই লাইনে বাতিল হয়েছে একাধিক ট্রেন।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার ওন্দাতে। সূত্রের খবর, ওন্দার কাছে একটি খালি মালগাড়িকে লুপলাইনে শান্টিং করা হচ্ছিল অর্থাৎ মালগাড়িটিকে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে সরানো হচ্ছিল। সিগন্যাল লালই ছিল সেই সময়। কিন্তু তাও ঘটে যায় দুর্ঘটনা।
জানা গিয়েছে, আদ্রা থেকে খড়গপুরগামী একটি মালগাড়ি আসছিল। আর সিগন্যাল না মেনেই তা পিছন থেকে সজোরে গিয়ে ধাক্কা মারে লুপলাইনে থাকা মালগাড়িটিকে। একটি মালগাড়ি অন্যটির উপর উঠে যায়। ১২টি বগি লাইনচ্যুত হয় মালগাড়িটির। দুটি মালগাড়িরই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সূত্রের খবর, ধাক্কার তীব্রতায় দুটি মালগাড়ির মোট ১২টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছে। ঘটনায় বিষ্ণুপুরগামী মালগাড়িটির চালক গুরুতরভাবে জখম হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে দুর্ঘটনার খবর চাউর হতেই ওই এলাকায় বাড়তে শুরু করেছে ভিড়।

সিগন্যাল না মানার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে রেল। এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে আদ্রা ডিভিশনের ডিভিশনাল সিনিয়র কর্মাশিয়াল ম্যানেজার বিকাশকুমার বলেন, “সিগন্যাল মানা হয়নি। ভোর সাড়ে চারটের সময় বাঁকুড়ার ওন্দার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। লুপলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িতে পিছন থেকে এসে ধাক্কা মারে আরেকটি মালগাড়ি। সিগন্যাল লাল থাকা সত্ত্বেও”।
অন্যদিকে আবার, ভোর সাড়ে চারটে থেকে ইন্দ্রবিল স্টেশনে আটকে পড়েছিল আদ্রা-হাওড়া এক্সপ্রেস। পরে ট্রেনটি বাতিল করে আদ্রা ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দ বিহার-পুরি এক্সপ্রেস, পোরবন্দর-সাঁতরাগাছি এক্সপ্রেস, হাওড়া-চক্রধরপুর এক্সপ্রেসের রুট বদল হয়েছে। এছাড়াও প্রয়াগরাজ-হাওড়া, আসানসোল-দিঘা, আদ্রা-খড়গপুর, বিষ্ণুপুর-আদ্রা-সহ একাটি প্যাসেঞ্জার ও ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস বাতিল হয়েছে।






