গতকাল, শুক্রবারই বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল যে বাংলার অবস্থাও মণিপুরের মতোই। পঞ্চায়েত ভোটের দিন হাওড়ার পাঁচলায় মহিলা বিজেপি প্রার্থীকে বি’ব’স্ত্র করার অভিযোগ ওঠে। যদিও পুলিশের মতে, এমন কোনও ঘটনা ঘটে নি। তবে এবার ফের সেই একই ধরণের অভিযোগ উঠল। চোর সন্দেহে দুই মহিলাকে বি’ব’স্ত্র করে জুতোপেটা করা হল ভরা বাজারে। আর পুলিশ সেখানে উপস্থিত থেকেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিজেপি।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের বামনগোলার পাকুয়াহাটে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই মহিলা দু’জন সম্পর্কে দুই জা। তারা হাটে গিয়েছিলেন লেবু বিক্রি করতে। সেখান থেকেই গোলমালের সূত্রপাত। চোর সন্দেহে ওই দুই মহিলাকে বি’ব’স্ত্র করে জুতোপেটা করে জনতা, এমনটাই অভিযোগ। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, পুলিশই বা কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেন না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিজেপির
এই ঘটনায় বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যের টুইটে জানান, গত ১৯ জুলাই মালদহের পাকুয়াহাটে দুই আদিবাসী মহিলাকে অকথ্য অত্যাচার করা হয়। ন’গ্ন করে বেধড়ক মারধর করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে বলেও অভিযোগ বিজেপি নেতার। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, সেই প্রশ্নও করেন অমিত মালব্য।
এই ঘটনায় রাজ্য শাসক দলকে তোপ দাগেন হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর প্রশ্ন, বাংলার নারীরা কী এই ধরনের আচরণের যোগ্য।
তৃণমূলের কী প্রতিক্রিয়া?
বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ করে পাল্টা দাবী করেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, “মালদহে যে ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপি দুটো বিষয়কে গুলিয়ে মণিপুরের বীভৎসতাকে আড়াল করতে চাইছে”।
তাঁর সংযোজন, “আমরা ঘটনাটির খোঁজ নিচ্ছি। পুলিশ বিষয়টি দেখছে। এভাবে আইন কে কেউ হাতে তুলে নিতে পারেন না। যারা এই কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তারা কঠোর শাস্তি পাবে”।





