অনেককাল ধরে চেষ্টা করেও চাকরি জোটে নি। বেকারত্ব অসহনীয় হয়ে উঠেছিল দিনের পর দিন ধরে। সেই কারণে চাকরি চেয়ে নারদ পুজো করেন বাঁকুড়ার রতনপুরের এক যুবক। তাঁর বিশ্বাস, নারদের মাধ্যমেই চাকরির প্রার্থনা দেবলোকে পৌঁছে যাবে।
হিন্দু ধর্মে দেবদেবীর অভাব নেই। বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে নারদ পুজো হত না। নারদ মুনির পুজোর আয়োজন তেমন একটা চোখে পড়ে না। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী বাঁকুড়া দু’নম্বর ব্লকের রতনপুর গ্রাম। যে বারের টেট নিয়ে রাজ্যে বিতর্কের সূত্রপাত, সেই ২০১৪ সালে প্রথম এই গ্রামে শুরু হয় নারদ পুজো। একেবারেই কাকতালীয়। তবে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ বারের নারদ পুজোর আলাদা করে ব্যঞ্জনা তৈরি করেছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।
এই নারদ পুজোর উদ্যোক্তারা বিশ্বাস করেন যে বেকারত্বের যন্ত্রণার খবর বার্তাবাহক নারদ ঠিক দেবালয়কে পৌঁছে দেবেন। আর ফলও মিলেছে হাতেনাতেই। যে বছর এই পুজো শুরু হয়, সেই বছরই গ্রামের বেশ কয়েকজন চাকরি পান। এরপর থেকে রতনপুর গ্রামে নারদ পুজোর জনপ্রিয়তা আলাদ মাত্রা পেয়েছে। এখন দুর্গা ও কালীপুজো যতটা না জাঁক করে হয়, তার বেশি জাঁকজমক দেখা যায় এই নারদ পুজোতে।
পুজো উদ্যোক্তাদের অন্যতম চঞ্চল মিশ্রের কথায়, “বেকারত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থায় শিক্ষিত বেকারদের বেকারত্বের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার আবেদনটুকু যাতে বৈকুণ্ঠলোকে পৌঁছে দেওয়া যায় সে জন্যই নারদ পুজোর আয়োজন করেছি। এখানে নারদের প্রতিমা তৈরি করে পুজো হলেও পুজোর ধরন-ধারণ নারায়ণ পুজোর মতোই”।
পুজা রানা নামে অন্য এক এক উদ্যোক্তা বলেন, “নারদ মুনি মর্ত্যলোক থেকে যাবতীয় ভালমন্দের খবর দেবলোকে পৌঁছে দেন। তাঁর পুজো করে গ্রামের কয়েক জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী দিনেও যেন সেই ধারাবাহিকতা থাকে, সে জন্যেই এই পুজো চালিয়ে যাচ্ছি আমরা”।
এই পুজো প্রসঙ্গে বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মণ্ডল বলেন, “এ রাজ্যে চাকরি নিয়ে যা ঘটছে, তাতে দেবতার কাছে আবেদন জানানো ছাড়া বেকারদের কাছে আর কোনও পথ খোলা নেই”।
অন্যদিকে আবার এই ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এ রাজ্যে যে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই হয়েছে। আগামী সময়ে আরও হবে”।





