সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে গোটা রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। ইতিমধ্যেই সন্দেশখালিতে ঘুরে গিয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশনের একটি দল। সেখানকার মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেছেন মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি দাবী করেছেন যে সন্দেশখালিতে রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। এবার ডিজিপি রাজীব কুমারের সঙ্গে বৈঠকে তাঁর কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে জানালেন রেখা শর্মা।
জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মার দাবী, তিনি সন্দেশখালি থেকে ১৮টির কাছাকাছি অভিযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২টি ধ’র্ষ’ণ ও একাধিক যৌ’ন হেনস্থার অভিযোগ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে তিনি শীঘ্রই রিপোর্ট দেবেন বলে জানিয়েছেন। ডিজিপির সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিনি। তবে ডিজিপি রাজীব কুমারের সঙ্গে সব বিষয়ে যে তিনি সহমত নন, এও জানালেন মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন।
কী বললেন রেখা শর্মা?
রেখা শর্মার কথায়, তাঁর অনুমান পুলিশের উপর কোনও চাপ রয়েছে। তবে গাফিলতির কথা পুলিশ যে স্বীকার করেছে, তা জানান রেখা শর্মা। তিনি বলেন, “কিছু বিষয়ে উনি সম্মতি জানালেও অনেকে বিষয়েই সম্মতি মেলেনি। তিনি মেনে নিয়েছেন পুলিশের গাফিলতি হয়েছে। সে কারণেই কেসটা এত বড় হয়েছে”।
রাজ্য পুলিশকে বেশ খোঁচা দিয়েই জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বলেন, “বাংলার পুলিশকর্তারা তো খুব ব্যস্ত। কেন্দ্রের কারও সঙ্গে দেখা করার সময় পান না। উনি যে দেখা করার সাহস দেখিয়েছেন এটা খুবই ভাল। তবে পুলিশের গাফিলতির কথা স্বীকার করাও বড় ব্যাপার। কারণ গাফিলতি মানলেই তাতে কাজ হবে। পুলিশ মহিলাদের কথা শোনেনি, গুরুত্ব দেয়নি। এ সবই আমি তাঁকে বলেছি। একইসঙ্গে পুলিশ আধিকারিকদের বদলির কথাও বলেছি। উনি সেটা গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন”।
উল্লেখ্য, সন্দেশখালি কাণ্ডে উত্তম সর্দার, শিবু হাজরা গ্রেফতার হয়েছে ঠিকই। কিন্তু মূল পাণ্ডা শেখ শাহজাহান এখনও অধরা। তাঁকে কেন এখনও গ্রেফতার করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। কবে আদৌ গ্রেফতার হবেন শাহজাহান, তা এখনও নিশ্চিত নয়। রেখা শর্মা বলেন, তিনি রাজীব কুমারকে বলেছেন শাহজাহানের গ্রেফতারির কথা।
কী জবাব দিলেন রাজীব কুমার?
রেখা শর্মার কথায়, “উনি তো বলছেন ওর (পড়ুন শেখ শাহজাহান) বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণই তো নেই। কীভাবে গ্রেফতার করব? ওনার মুখের অভিব্যক্তি, শরীরী ভাষা দেখে স্পষ্ট বোঝা গেল উনি চাপে আছেন। মাঝে কয়েকটা ফোন এল। তাতে আরও বদলে গেলেন তিনি। মনে হল তারপর থেকে চাপ যেন আরও বাড়ল। তবে উনি যখন গাফিলতির কথা মানছেন আমি ওনাকে আবার চিঠি লিখব। আশা করছি কাজ হবে”।





