দীর্ঘদিন ধরেই অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন তারা। কিন্তু কেউ সেই অভিযোগকে পাত্তা দেয়নি। অবশেষে বিক্ষোভের পথ বেছে নিয়েছিলেন তারা। হাতে বাঁশ, লাঠি নিয়ে নিজেদের সম্মানের স্বার্থে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন। ফলও পেলেন তাতে। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের সাগরেদ উত্তর সর্দারের পর এবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার শিবু হাজরাও। এই খবরে একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দে মাতলেন সন্দেশখালির মহিলারা।
শেখ শাহজাহানের দুই সাগরেদ উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে গ’ণ’ধ’র্ষ’ণ ও খু’নের চেষ্টার মামলা দায়ের হয়। সন্দেশখালির এক নির্যাতিতা গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপরই সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। এরপর শনিবার ন্যাজোট থেকে গ্রেফতার করা হয় শিবু হাজরাকে।
বিগত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত সন্দেশখালি। শেখ শাহজাহান ও তাঁর দুই সাগরেদ উত্ত ও শিবুর বিরুদ্ধে মহিলাদের শ্লী’ল’তা’হা’নি ও তাদের উপর শারীরিক অত্যাচার করার অভিযোগ তুলেছিলেন সেখানকার মহিলারা। বিক্ষোভ দেখান তারা। এই ঘটনার পর উত্তম সর্দারকে গ্রেফতার করা হলেও ফেরার ছিল শিবু। অবশেষে শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। এর ফলে স্বস্তিতে সন্দেশখালির মহিলারা।
এই খবর পাওয়ার পরই সন্দেশখালির একাধিক গ্রামে চা, মিষ্টি বিলি করা হয়। গ্রামের মহিলারা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দে মাতেন। বিলি করা হয় গুড়, বাতাসা, নকুলদানা। দীর্ঘদিনের অত্যাচার বন্ধ হওয়ায় খুশি তারা। তবে শাহজাহানের গ্রেফতারির দাবীও তুলেছেন তারা। তবেই পুরোপুরি স্বস্তি মিলবে তাদের।

গতকাল, রবিবার রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক, সুজিত বসু, বীরবাহা হাঁসদা গিয়েছিলেন সন্দেশখালির ন্যাজোটে। সেখানে একটি সভা করেন তারা। সন্দেশখালির যে সমস্ত বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে শিবু হাজরা ও উত্তম সর্দার তাদের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
এই বিষয়ে রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক বলেন, “প্রচুর গরিব মানুষ আমাদেরই দলের একজনের দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন। আমরা যারা দল করি আমাদের দায়িত্ব ৫ টাকা, ৭ টাকা, ১০ টাকা বিধানসভাওয়াড়ি চাঁদা তুলে পাশে দাঁড়ানো”।





