ইন্টারনেটের যুগে বেড়েছে প্রচার। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বড় বড় দোকানরা নিজেদের প্রচার করে থাকেন। এখন অনেক ছোট ছোট দোকানদাররাও ব্লগারদের মাধ্যমেই ভাইরাল হয়ে যান। তাতে লাভবান হন দুপক্ষই। দোকানে ঠিক যেমন বিক্রি বাড়ে আবার অনেক সময় ওই ভিডিও মালিকের ভিউজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকাও বাড়ে। আমরা এমন কত খাবারের দোকান দেখেছি যারা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ফুড ব্লগাররা ছোটখাটো দোকান গুলিতে খাবারের খোঁজ দিয়ে থাকেন মানুষকে। সেই দোকানের খাবারটি কেমন বা কেমন পরিবেশন করে খাবারটি দেওয়া হচ্ছে সবদিকেই নজর থাকে এই ফুড ব্লগারদের। নন্দিনী দি, ফোন পে পেটাই পরোটা, অরুণদার দোকান থেকে শুরু করে বাচ্চার বিরিয়ানি- ইন্টারনেটের যুগে এদের সবাই ফেমাস হয়েছেন ফুড ব্লগারদের দৌলতেই।
বড় বড় রেস্টুরেন্টে আমরা অনেক সময় খেয়ে থাকি তবে রাস্তার ছোটখাটো দোকানেও খেতে হয় মাঝেমধ্যে। দরকার পড়লে ভরসা ওই রাস্তার পাশের দোকানগুলি। মধ্যমগ্রাম নামটা সকলেই জানেন, এখানে রয়েছে একের পর এক বড় বড় রেস্টুরেন্টের ব্রাঞ্চ। সেসব নিয়ে ফুড ব্লগিং অনেক দেখেছি। তবে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে মধ্যমগ্রামের রাস্তায় কম্বো বিক্রি করছেন এক বছর চল্লিশের ব্যক্তি। ইন্টারনেটে অনেকেই খুঁজে থাকেন কম দামে কোথায় ভালো খাবার পাওয়া যাচ্ছে, আবার সঠিক দামে ভালো কম্বো পাওয়া যাচ্ছে কোথায়। পোলাও আলুর দম, ফ্রাইড রাইস চিলি চিকেন এসব কম্বো খুঁজতে ফুড ব্লগারদের ভিডিও দেখেন অনেকে। মধ্যমগ্রাম নামটা অনেকের কাছে বেশ পরিচিত। মধ্যমগ্রামে বড় বড় রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন ব্রাঞ্চ রয়েছে সেসব ভিডিও আমরা প্রায়শই দেখে থাকি। এবার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সামনে এল মধ্যমগ্রামের ছোট ফুড স্টলের একটি ভিডিও।
সৃজিত রিয়া স্টোরি নামক একটি কাপল ব্লগাররা, যারা বিভিন্ন স্থানের খাবার খোঁজ করে সকলকে জানান। তারা সম্প্রতি একটি ফুড স্টলের খোঁজ দিয়েছেন মধ্যমগ্রামে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন ওই দোকানটিকে নিয়ে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বছর ৪০ এর এক ব্যক্তি নাম সন্দীপ দাশগুপ্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে খাবার বিক্রি করছেন। কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির দাপট উপেক্ষা করে একটি ছাতার নিচে বিক্রি করছেন খাবার। ওই দোকানে বিক্রি হচ্ছে পোলাও আর চিকেন কষা। সেই ভিডিও থেকে জানা যায় ওই ব্যক্তি একটি ভালো জায়গায় কাজ করতেন। কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবার পরে সৌদি আরবে যান তিনি, সেখানেও কাজ করেন। তবে বর্তমানে চাকরির বাজারের অবস্থা খারাপ, তাই সংসার চালানোর জন্য বেছে নিয়েছেন এই খাবার বিক্রি পথকেই। আগে চাকরি করা একটা লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্রি করছেন খাবার, একটা মানুষের পক্ষে এটা কতটা অসহায় ভাবতে পারছেন? ঝড় জল উপেক্ষা করে রোজই দোকান নিয়ে বসেন তিনি। ওই ব্যক্তির কথায়,” সংসার চালাতে হবে, উপায় নেই। একদিন দোকান বন্ধ দিয়ে দিলে সমস্যা হবে।এক দিনের সেল কমে যাবে”।
ওই ফুড স্টলে পাওয়া যায় পোলাও, চিকেন কষা, আলুর দম। মাঝে মাঝে আলুর দমের বদলে তিনি রাখেন পনির। দু পিস চিকেন দিয়ে পোলাও এর দাম মাত্র ৭০ টাকা। চার পিস চিকেন দিয়ে পোলাও এর দাম ১৬০ টাকা। কাজু পোস্ত দিয়ে আলুর দম সাথে পোলাও দাম রেখেছেন মাত্র ৬০ টাকা। অন্য দিন পনির দিয়ে পোলাও এর দাম পড়ে ৮০ টাকা প্লেট। এমনকি মটন পোলাও কম্বো শুরুর কথাও সেই ভিডিওতে জানিয়েছেন ওই বিক্রেতা। এই দোকানটি রয়েছে মধ্যমগ্রাম কালিবাড়ি পার করে কানাড়া ব্যাঙ্কের ঠিক সামনে। উনি জানিয়েছেন যে কোন অনুষ্ঠানে খাবার ডেলিভারির কাজ তিনি করে থাকেন।
এই ভিডিওর মাধ্যমে সৃজিত রিয়া স্টোরি ব্লগার মধ্যমগ্রামের এই ছোট্ট ফুডস্টলটিকে ভাইরাল করতে চেয়েছেন। যেন ঐ ব্যক্তি নিজের সংসার চালাতে পারেন হেসে খেলে তার ব্যবস্থা করে দিতে এই ভিডিওটি করেছেন ওই ব্লগার। মানুষ কতটা অসহায় হলে রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। ভিডিওতে সব কথা বলতে বলতে সন্দীপবাবুর চোখের কোনে জল এসে গিয়েছে। তবে ছেলেদের তো কাঁদতে নেই, যার কাঁধে দায়িত্ব থাকে তাকে ভেঙে পড়তে নেই। পেটের দায়ে রাস্তায় খাবার বিক্রি করে সংসার চালাতে হচ্ছে এক সময় অফিসে চাকরিরত সন্দীপ বাবুকে। মধ্যমগ্রাম এর কাছাকাছি থাকলে সবাই একবার ওনার দোকানে খাবার খেয়ে দেখুন। একটু না হয় সন্দীপবাবুর পাশে এসেই দাঁড়ালেন, ওনার দোকানে খেয়ে ওই ভিডিওতে এমনই অনুরোধ করেছেন ওই ব্লগার।






