মোহনবাগানের প্রতি ভালোবাসায় ফিরিয়েছিলেন টটেনহ্যামের প্রস্তাব, শোকপ্রকাশ টটেনহ্যাম ক্লাবের

ভারতীয় ফুটবল যাদের হাত ধরে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি পেয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন চুনী গোস্বামী। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। তাঁর ফুটবল জীবনের একমাত্র ধ্যান জ্ঞান ছিল মোহনবাগান। তাঁর কেরিয়ারে বিশ্ব বিখ্যাত হওয়ার অনেক সুযোগই এসেছিল কিন্ত মোহনবাগান প্রেমের গভীরতা হার মানিয়ে দিয়েছিল সব প্রস্তাবকেও।

১৯৫৪-৬৮ দীর্ঘ পনেরো বছর মোহনবাগানের ফুটবলার থাকাকালীন বিদেশ থেকে একাধিক ক্লাবের প্রস্তাব খারিজ করে দেন চুনী গোস্বামী। মোহনবাগান থেকে কখনই তাঁকে নড়ানো যায়নি। মোহনবাগান প্রেমে এতটাই বুঁদ ছিলেন যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের অফার ছেড়ে দিয়েছিলেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেললে আজ তাঁর ফুটবল প্রতিভা বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেত। তবুও কেন তিনি টটেনহ্যামের প্রস্তাবে সাড়া দেননি?

এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই তার উত্তরে বলেছিলেন, তৎকালীন মোহনবাগান কর্তা ধীরেন দে আমাকে বলেছিলেন, “সেখানে গিয়ে কী করবেন? খেলার সুযোগ পাবেন এটা কি নিশ্চিত? তার উপর বিদেশে গিয়ে একা একা থাকতে পারবেন?” ধীরেন দে-র কথা ফেলতে পারেননি চুনী গোস্বামী। তারপর আর কোনোদিন ইংল্যান্ডে খেলতে যাননি ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি এই ফুটবলার।

এত বছর পরও তবু টটেনহ্যাম হটস্পার মনে রেখেছে এই কিংবদন্তিকে। তাই তো চুনী গোস্বামীর মৃত্যুর পর বিশ্বখ্যাত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি নিজেদের টুইটারে চুনী গোস্বামীকে ভারতের সেরা ফুটবলার বলে উল্লেখ করে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছে।

শোনা যায়, একবার তিনি ইষ্টবেঙ্গল কর্তা জ্যোতিষ গুহের ফিয়েট গাড়ির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু ফুটবল নয়, একজন জাতীয়স্তরের কমপ্লিট ক্রীড়াব্যক্তিত্ব ছিলেন চুনী গোস্বামী। ফুটবল থেকে ক্রিকেট, টেনিস থেকে হকি সর্বত্রই ছিল তার অবাধ বিচরণ। ১৯৬৪ সালে ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পরও চার বছর সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে খেলেছেন। ১৯৬৮ সালে শেষবার ময়দানে নামেন তিনি। আর তারপর ২০২০ সালের ৩০শে এপ্রিল বিশ্বের এই ক্রীড়াঙ্গন ছেড়ে পরলোকে চলে গেলেন শৈল্পিক ফুটবলার চুনী গোস্বামী।

RELATED Articles

Leave a Comment