জঘন্য ফুটবল খেলেও লজ্জা নেই ইস্টবেঙ্গল কোচের! বললেন ‘ফুটবলে এরম হয়েই থাকে’, দিলেন দ্রুত ফিরে আসার আশ্বাস!

আগের বছর সুপার কাপ জিতিয়ে স্বপ্ন দেখানো শুরু করেছিলেন আপামর ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) সমর্থকদের। ভালো মন্দ মেশানো ফুটবল খেলে আইএসএল (ISL) এর শেষ ছয়ে যাওয়ার সুযোগও ছিল ইস্টবেঙ্গলের কাছে। তাও বিগত কয়েক মরশুমের থেকে পারফরম্যান্স কিছুটা ভালই ছিল। তার জেরেই এই মরশুমে ভালো কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। তবে মরশুমে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি ইস্টবেঙ্গলর। ডুরান্ড কাপ (Durand cup) থেকে বিদায় নিতে হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালেই। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু এর যোগ্যতা অর্জন ম্যাচেও হেরে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে সেসব ভুলেই আইএসলের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা।

তবে সে আশাও পূর্ণ হয়নি লাল হলুদ সমর্থকদের। বিগত প্রত্যেক বছরের মত এবারও আইএসএল এর প্রথম ম্যাচ হেরে অভিযান শুরু করল ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধে রীতিমতো জঘন্য ফুটবলই উপহার দিয়েছে দর্শকদের। নড়বড়ে ডিফেন্স, জমাট না বাঁধা মাঝমাঠ এবং সমস্ত প্লেয়ারই যেন ছিল কম বেশি ‘আনফিট’। আগের বছরের সর্বোচ্চ গোলদাতা দিমিত্রি ডিমানটাকোসকে একবারের জন্য গোলের বল সাজিয়ে দিতে পারেনি লাল হলুদের ফুটবলাররা।

আগের বছর সর্বোচ্চ এসিস্টদাতা কে লাল হলুদ কোচ প্রথম একাদশে জায়গায়ই দেননি। খেলার মাঠে দিশাহারা হয়ে অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামান মাদিহ তালালকে। দ্বিতীয়ার্ধে নামান ক্লেটন সিলভা, পিভি বিষ্ণু, ডেভিডদের। তারপর শেষ সময়ে গিয়ে একটু চঞ্চল হয় ইস্টবেঙ্গল এর খেলা। তাহলে কি কোচের প্রথম একাদশ সাজানোতেই ছিল ভুল? কোচে স্ট্রাটেজির জন্যই কি বারবার ডুবছে ইস্টবেঙ্গল? উঠছে প্রশ্ন।

ইস্টবেঙ্গলের খেলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হতাশা প্রকাশ করেছেন সমর্থকরা। কেউ লিখেছেন, “ইস্টবেঙ্গল রয়েছে ইস্টবেঙ্গলেই”। অন্য আরেকজন লিখেছেন, ” ইন্ডিয়ান সুপার লিগের মরশুম একের পর এক বদলে গেলেও, ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্সে কোনও বদল ঘটেনি”‌। কেউ আবার লিখেছেন, “ইস্টবেঙ্গলের মশাল এক্সপায়ার করে গেছে আর ঠিকঠাক ভাবে জ্বলে না”।

এত সমালোচনার পরেও দমে যেতে নারাজ ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত। তিনি জানিয়েছেন, “ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের আটটি শটের মধ্যে দু’টি ছিল লক্ষ্যে। ২২টি ক্রস দেন মহেশ, নন্দকুমাররা। আমাদের ছেলেরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোল করার জন্য লড়ে গেছে। এমনকী প্রতিপক্ষের বক্সে অনেকবার হানাও দিয়েছে। তবে আমরা জিততে পারিনি। ফুটবলে এ রকম হয়েই থাকে। ভরসা রাখুন, আগামীদিনে ছেলেরা আরও ভাল পারফরম্যান্স করবে”। 

তিনি আরও জানান, “১০ জন হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও আমাদের ছেলেরা অনেকগুলো ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে সেগুলো গোলে পরিণত করতে পারেনি। আমরা পয়েন্ট পাওয়ার জন্য লড়াই করেছি।”। পরের ম্যাচে কোচের মুখ রক্ষা করতে পারে কি না ইস্টবেঙ্গলের ছেলেরা এখন সেটাই দেখার।

RELATED Articles