কলকাতা হাইকোর্টের দুই বিচারপতি অর্থাৎ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও বিচারপতি সৌমেন সেনের মধ্যেকার সংঘাত এক মাত্রা নিয়েছে। বিচারব্যবস্থায় এমন ঘটনা নজিরবিহীন। সেই বিতর্কের মধ্যেই এবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন ২৫০-এর বেশি আইনজীবী। তাদের দাবী, অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে।
কেন এই চিঠি?
জানা গিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের ২৫০ জনের বেশি আইনজীবী হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের কাছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের আচরণ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে নাকি হেনস্থা করেছেন বিচারপতি। সেই কারণে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে।

দুই বিচারপতির মধ্যে দ্বন্দ্ব কী নিয়ে?
মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি নিয়ে দুর্নীতি হচ্ছে বলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন এক মামলাকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি কোনও ভাবেই সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে পারছেন না দু’বার কাউন্সেলিংয়ের পরও। তাঁর তফশিলি উপজাতিভুক্ত শংসাপত্র রয়েছে। কিন্তু তাও ভর্তি হতে পারছেন না তিনি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে। অথচ ভুয়ো শংসাপত্র দিয়ে অনেকেই ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন।
এই নিয়ে আদালতে মামলা করলে এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু সেই মামলা খারিজ করে দেয় বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। এরপরই ক্ষোভ উগড়ে বিচারপতি সেনকে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এই নিয়ে শুরু হয় দুই বিচারপতির সংঘাত। পরবর্তীতে এই মামলা হাইকোর্ট থেকে সরিয়ে নেয় সুপ্রিম কোর্ট। আপাতত মেডিক্যাল কলেজ দুর্নীতির মামলা শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন।
উষ্মা প্রকাশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির
এই ঘটনায় দুই বিচারপতির বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। তিনি বলেন, “যা হয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত দুঃখিত এবং লজ্জিত। আদালতে এটা আশা করা যায় না। এটা দেশের ঐতিহ্যশালী হাই কোর্ট। এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি অনেক সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলছে। আমরা এই সমস্যার সমাধান করার সবরকম চেষ্টা করছি”।





