আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় গর্জে উঠেছে গোটা রাজ্য। চারিদিকে চলছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে উঠে এসেছে এক দাবী। নানান জায়গায় দাবী করা হচ্ছে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর ছেলে।
আর জি করের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করলেও নানান মহলেই দাবী উঠেছে যে এই ঘটনা কারোর একার পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে আর জি করের এক ইন্টার্নের ফোনে কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছিল। তাতে তাঁকে দাবী করতে শোনা গিয়েছিল, এই কাণ্ডে যুক্ত এক বা একাধিক ইন্টার্ন।
এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তিনজন চিকিৎসক পড়ুয়ার ছবি ঘোরাফেরা করছে। দাবী, তারাই এই ঘটনায় জড়িত। এদের মধ্যে আবার একজনের নাম, ছবি পোস্ট করে দাবী করা হচ্ছে যে তিনি নাকি পূর্ব মেদিনীপুরের প্রাক্তন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রের ছেলে। আর তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য। এবার এই ঘটনায় মুখ খুললেন খোদ প্রাক্তন মন্ত্রী।
গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে ওই যুবকের ছবি পোস্ট করে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে তিনি সৌমেন মহাপাত্রের ছেলে, তাতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীকে। সত্যিই কী ওই যুবক সৌমেন মহাপাত্রের ছেলে? এই ঘটনায় বেশ মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
এই ঘটনার পর এবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিষয়ে খোলসা করেন সৌমেন মহাপাত্র। তিনি জানান, তাঁর ছেলের নাম বোধিসত্ত্ব মহাপাত্র। যে যুবকের ছবি ভাইরাল হচ্ছে, তাঁকে তিনি চেনেন না। ওই যুবক তাদের পরিবারের কেউ নন। প্রাক্তন মন্ত্রীর কথায়, পদবী এক হওয়ার কারণে এমন হচ্ছে।
সৌমেন মহাপাত্র বলেন, “আরজি কর কাণ্ডে যে ভাবে অপপ্রচার হচ্ছে আমি বা আমার পরিবার জনরোষের শিকার হতে পারি। জনরোষ বুঝবে না কোনটা আমার ছেলে, কোনটা নয়, গণপিটুনির শিকার হতে পারি আমরা”।
এদিন সৌমেন মহাপাত্র সরাসরি না বললেও তাঁর স্ত্রী সুমনা মহাপাত্র দাবী করেন, পাঁশকুড়ার তৃণমূলের একাংশ তাঁর পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। সেই কারণে এমন মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। যার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁর পরিচয় প্রকাশ্যে আনেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। তবে তাঁর স্পষ্ট কথা, ওই যুবক তাঁর ছেলে নন।






